গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ঈদ সতর্কতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৮ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ, মিলন ও উৎসবের মুহূর্ত। তবে বিশেষ করে গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য ঈদের প্রস্তুতির সময় কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই সময়ের খাদ্যাভ্যাস, ঘরের কাজের চাপ ও যাতায়াত সবই মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য ঈদের সময়ে কীভাবে সতর্ক থাকা উচিত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক।

ছবি: ডা. সাকিয়া হকছবি: ডা. সাকিয়া হক

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। ঈদের সময় তেলে ভাজা, মিষ্টি বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারের প্রতি লোভ হলেও পরিমিত খাওয়া উচিত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজযুক্ত খাবার খেলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রোটিন, আয়রন ও ক্যালসিয়ামের যথাযথ সরবরাহ প্রয়োজন। স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও দুধের মতো তরল খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলা

ঈদের সময় ঘর গোছানো, রান্না ও বাজারের ব্যস্ততা অনেক মায়ের ওপর চাপ তৈরি করে। ডা. সাকিয়া হক বলেন, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের উচিত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা। বেশি পরিশ্রম করলে ক্লান্তি, রক্তচাপের ওঠানামা বা মাথা ঘোরা হতে পারে। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নেওয়া উচিত।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য ঘুম ও বিশ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। ঈদের সময় ব্যস্ততা থাকলেও প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া জরুরি। শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে ক্লান্তি, হরমোনের সমস্যা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই কাজের মধ্যে বিরতি নিয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

হাইজিন ও নিরাপদ খাবারের প্রতি সতর্কতা

ঈদের সময় বাইরে থেকে খাবার নেওয়া বা নতুন রান্নার প্রক্রিয়া মেনে না চললে হজম সমস্যা বা পেটের অসুবিধা হতে পারে। ডা. সাকিয়া হক বলেন, খাবার আগে ভালোভাবে ধোয়া ও রান্না করা জরুরি। শিশুদের জন্য দুধ বা অন্যান্য খাবার প্রস্তুত করার সময় সতর্ক থাকা উচিত। এছাড়া হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিবেশ এবং স্যানিটারি ব্যবস্থা মেনে চলা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:

জরুরি অবস্থায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ

গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়ের যদি হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি ভাব, পেট ব্যথা, রক্তপাত বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গেলে স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে এবং উৎসবের আনন্দও পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করা সম্ভব।

ডা. সাকিয়া হক বলেন, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য ঈদ শুধু আনন্দ নয়, এটি স্বাস্থ্যসচেতন থাকার সময়ও। পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিরাপদ পরিবেশ এবং জরুরি সতর্কতা মেনে চললেই মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষা হয়। ফলে ঈদ উদযাপন হবে নিরাপদ ও আনন্দঘন, যেখানে পরিবারের সবাই সুস্থ থাকবে এবং মায়েদেরও কোন ঝুঁকি নিতে হবে না।

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।