কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা আর অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের ফলে দিনে দিনে রুচিশীল পর্যটকদের কাছে ব্যবহার উপযোগিতা হারাচ্ছে যশোরের বেনাপোলের পর্যটন মোটেল। এছাড়া ‘পর্যটন মোটেলে’ অবাধে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এক শ্রেণির দালালদের খপ্পরে পড়ে এলাকার অসহায় যুবতী, গৃহবধূ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা লোক চক্ষুর আড়ালে জড়িয়ে পড়েছে অসামাজিক কার্যকলাপে। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মোটেলের ইউনিট ম্যানেজার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল পর্যটন মোটেলের ইউনিট ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষকসহ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় চিহ্নিত কলগার্লরা এখানে নিয়মিত যাতায়াত করছে। এই ব্যবসার জন্য মোটেলকে ঘিরে একটি চক্রও গড়ে উঠেছে। মোটেলের কক্ষ বরাদ্দ নিয়েও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে আমদানিপণ্য ছাড়াতে আসা ব্যবসায়ী, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের সমাধি, ব-দ্বীপ আকৃতির বাহাদুরপুর বাঁওড়, পুটখালী বিলের নৈসর্গিক দৃশ্য, হরিচাঁদ ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রম, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টের রোমাঞ্চকর অনুভূতি উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেসরকারি হোটেল ব্যবহার করছেন। পর্যটন করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত মোটেলে পর্যাপ্ত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সরকারি এই মোটেল ব্যবহার করতে পারেন না দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আসা দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীরা। ফলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান বেনাপোল পর্যটন মোটেল। এখানে একটি এসি স্যুইটের একদিনের ভাড়া তিন হাজার ৮০০ টাকা। আর এসি ও ননএসি রুমের ভাড়া যথাক্রমে দুই হাজার ২০০ ও দেড় হাজার টাকা। ডরমেটরিতে নেওয়া হয় ৩০০ টাকা করে। এছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নেওয়া হয় ইচ্ছেমতো টাকা। প্রতিটি রুমে টিভি, পিএবিএক্স টেলিফোন, গরম পানিসহ আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এতসব সুবিধা থাকার পরও বর্তমানে এই মোটেলে খুবই কম সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করেন। মোটেলের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একটি চক্র বর্তমানে পর্যটকদের থাকার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে। এর পেছনে বর্তমান ইউনিট ব্যবস্থাপক ও হিসাবরক্ষকের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী জানান, মোটেলে একদিনের কক্ষ ভাড়া নিলে ২৪ ঘণ্টা সেই ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কলগার্ল ব্যবহার করা লোকেরা কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে চলে যান। তারপর ওই কক্ষ অন্য আরেকজনের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। এভাবে এক কক্ষ দিনে একাধিকবার ভাড়া দেওয়া হয়। কিন্তু খাতা-কলমে ভাড়া দেখানো হয় একবার। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি একাধিক কক্ষ ভাড়া নিলে মাত্র একটি কক্ষ ভাড়া দেখিয়ে বাকি কক্ষের ভাড়া আত্মসাৎ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মোটেলে গ্রাহকদের চাহিদামতো কলগার্ল সরবরাহ করেন শাহাজাহান, আফজাল, হাফিজুর, কামরুজ্জামান, ফরিদ, লিটন ও ফিরোজা।মোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় মোটেলের কতিপয় কর্মচারী। আর কলগার্লদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন ফিরোজা নামে এক দালাল। কলগার্ল যে টাকা নেন তার মধ্যে মোটেলের অভ্যর্থনাকারী শাহাজাহান এক হাজার টাকা ও দায়িত্বে থাকা বেলম্যান ৫০০ টাকা পান। বাকি টাকা কলগার্লের। এছাড়া ম্যানেজার খরিদ্দারের কাছ থেকে বাড়তি পাওনা আদায় করেন। তবে কলগার্লদের লীলাক্ষেত্র বানানোর বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার করেছেন মোটেলের ইউনিট ব্যবস্থাপক এসএম মুজাহিদুল আলম। মোটেলে অনৈতিক কোনো কাজ হয় না দাবি করে তিনি বলেন, অতীতে কে কী করেছে জানি না। কিন্তু আমার সময়কালে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড এখানে করতে দিই না। কোনো গেস্ট যদি কাউকে নিয়ে এসে স্ত্রী পরিচয় দেয়, তবে কিছু বলার থাকে না। কিন্তু আমার নজর থাকে। কোনো অসামঞ্জস্য দেখা দিলে বা সন্দেহের উদ্রেক হলে আমি তাদের মোটেলে ঢুকতেই দিই না।থানা সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন মোটেল থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার আসামিসহ অসংখ্য তরুণী ও যুবকদের আটক করা হয়েছে। এফএ/এমএস