জাতীয়

অঞ্জন দত্তের ভক্ত ছিল নিহত জঙ্গি শেহজাদ

রাজধানীর কল্যাণপুরে অপারেশন ‘স্টর্ম ২৬’ অভিযানে নিহত হয়েছে জঙ্গি শেহজাদ রৌফ। তার বন্ধু গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলাম। এ দুই জঙ্গিই ছিল আমোদপ্রিয়। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফ অব  ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে গায়ক ও চলচ্চিত্রকার অঞ্জন দত্তের গান পরিবেশন করত শেহজাদ। গিটারও বাজাত সে।  মার্কিন নাগরিক শেহজাদ শিকাগো থেকে তার পরিবারের সঙ্গে কয়েক বছর আগে ঢাকায় ফিরে আসে। এরপর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করে। সেও নিবরাস নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। শেহজাদের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ বলছে, শেহজাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে। তার বাবা একজন কোটিপতি। তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন। তার দাদা প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক প্রধান ব্রি. জেনারেল আব্দুর রউফ।শেহজাদ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানের আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিবরাস ইসলাম। রেস্তোরাঁয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত নিবরাস শেহজাদের বন্ধু।  শেহজাদের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেলিগ্রাফকে বলেন, শেহজাদ ছিল আমোদপ্রিয়, অন্য সাধারণের মতো একজন, যে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ভালোবাসত... আমার এখনও মনে আছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে সে অঞ্জন দত্তের ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো’ গানটি গেয়েছিল। গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলার পর বাংলাদেশে পশ্চিমা ভাবধারাপুষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে নিখোঁজ হয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এদের অনেকেই সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। ওই আত্মীয় টেলিগ্রাফকে আরো বলেন, শেহজাদের পরিবার শিকাগোতে বসবাস করত... কিন্তু তার মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ার পর তারা দেশে ফিরে আসে। এরপর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করে সে এবং ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট সম্পন্ন করে। সে বিবিএ শেষ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ছিল।তিনি বলেন, তার পরিবার অনেকটাই উদারপন্থী... তারা প্রায়ই বাড়িতে পার্টির আয়োজন করত, যেখানে অতিথিরা আসতেন এবং গান-বাজনা করতেন। ২০০৯ সালে শেহজাদের মা মারা যান। তারপর থেকে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত... কিন্তু আমরা কখনোই ভাবতে পারিনি সে একজন সন্ত্রাসী হয়ে উঠবে। সে যা করেছে, তাতে আমাদের সমর্থন নেই। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাই। যারা শেহজাদের মতো তরুণদের মগজধোলাই করেছে এবং তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে, কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা- বলেন তিনি।

কল্যাণপুরে নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে, সেটি হলো জঙ্গি নিয়োগকারীরা শহর এবং গ্রামের তরুণদের টার্গেট করে দলে নিয়োগ দিচ্ছে। এর একটি কারণ হতে পারে যে তারা সমাজের শ্রেণি প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে দেশজুড়ে হামলা চালাতে সক্ষম; সেই বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছে। এসআইএস