কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় করা মামলা জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম।এর আগে সোমবার রাতে জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় কুবির নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাদেক হোসেন মজুমদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মুঠোফোনে ডিবি কর্তৃক মামলা তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন। এদিকে সোমবার দুপুরে আটক ১২ জনের মধ্যে ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার সকালে ডিবি কার্যালয় থেকে কুবির শিক্ষকদের নিকট হস্তান্তর করা হলেও অপর ছয় ছাত্রকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। যে ছয়জনকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র (ধীরেন্দ্র নাথ হল) রেজাউল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম (ধীরেন্দ্র নাথ হল), লোকপ্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শেষ বর্ষের ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক (ধীরেন্দ্র নাথ হল), বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র সুদিপ্ত নাথ (ধীরেন্দ্র নাথ হল), বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুপম চন্দ্র দেবনাথ (কাজী নজরুল ইসলাম হল) এবং নৃ-বিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজন বরণ বিশ্বাস। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, ওই ছাত্র নিহতের ঘটনায় যারাই জড়িত, তাদের সবাই গ্রেফতার হবে। কাউকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেফতার করা হবে না। ডিবির ওসি একেএম মঞ্জুর আলম বলেন, ‘বর্তমানে ডিবির কার্যালয়ে কুবির ছয় ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ওই ছাত্র হত্যায় কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’ উল্লেখ্য, শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি আলিফ ও ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস সবুজ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ছয়জন আহত হন।ইলিয়াস সবুজ গ্রুপের গুলিবিদ্ধ খালেদ সাইফুল্লাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।কামাল উদ্দিন/এসএস/আরআইপি