নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় বড় কবরস্থান এলাকায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ নিহত তিন জঙ্গি সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিন জঙ্গির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিহত জঙ্গিদের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ শহরের মন্ডলপাড়াস্থ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস জানান, দুপুরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আরএমও ডা. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একজন সার্জারি কনসালট্যান্ট ও একজন মেডিকেল কর্মকর্তা ময়নাতদন্ত কাজে নিয়োজিত থাকবেন।এর আগে পাইকপাড়ায় বড় কবরস্থান এলাকার নুরুদ্দিনের বাড়ির তৃতীয় তলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছেন এমন খবর পয়ে শনিবার ভোরে ভবনটি ঘিরে ফেলে পুলিশ।সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন হিট স্টং ২৭’। অভিযান শুরুর পর ১০টার দিকে সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়।এরপর পৌনে ১১টার দিকে থেকেই খবর আসতে থাকে অভিযান কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু জানাচ্ছিলেন না। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা ও জিম্মিদশার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রাথমিক প্রতিরোধে প্রাণ হারান পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা। পরদিন সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে (অপারেশন থান্ডার বোল্ট) নিহত হয় হামলাকারী ছয় জঙ্গি। তবে তার আগেই জঙ্গিরা দেশি-বিদেশি ২০ জনকে হত্যা করে। এরপর পুলিশ জানায়, নৃশংস এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন সেনাবাহিনীর চাকুরিচ্যুত মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরী। এরপর থেকেই তাদের খোঁজে ছিল পুলিশ। মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি