দেশজুড়ে

অবৈধ হাট বাণিজ্যে আ.লীগ-বিএনপি একজোট

সিলেটের বিভিন্ন স্থানে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাবে এবারও পশুর অবৈধ হাট বসেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে একজোট হয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলও শরিক হয়েছে অবৈধ হাটের বাণিজ্যে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরতলির শাহি ঈদগাহের খেলার মাঠে বসানো হয়েছে গরু-ছাগলের হাট। এ মাঠের মূল মালিক সিলেটের জেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের কোনো অনুমতি না নিয়েই এ মাঠে অবৈধভাবে হাট বসেছে। সাবেক জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিরু ও ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ এ হাট বসিয়েছেন। ঈদগাহ মাঠ কমিটির নাম ভাঙিয়ে হাট বসিয়ে টাকাও তোলা হচ্ছে।তবে ছাত্রদলের কর্মীরা এ মাঠ পেতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাদের ১৫ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শাহি ঈদগাহের মাঠটি কাউকে পশুর হাট বসানোর জন্য ইজারা দেয়া হয়নি। সেখানে অনুমতি না নিয়েই পশুর হাট বসানো হয়েছে। মাঠ খালি করা হবে শিগগিরই।জেলা ছাত্রদল নেতা হিরো ও সাজ্জাদ জানান, তারা মাঠটি শাহি ঈদগাহ এলাকাবাসী কমিটির নামে এনেছেন। তবে কোনো অনুমতি নেই। একটি আবেদন উপজেলা প্রশাসনে দিয়েছেন। কোনো সরকারি রাজস্ব না দিয়ে তারা হাট বসিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। এদিকে, শাহি ঈদগাহর অবৈধ হাটের বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন তারেক নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই হাটটি যদি উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হতো, তাহলে সরকার রাজস্ব পেত এবং হাটটিও বৈধ ব্যবসায়ীরা পেতেন। মহানগেররর শাহজালাল উপশহরে গার্ডেন টাওয়ার ও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের পাশে বসানো হয়েছে পশুর অবৈধ হাট। কয়েদির মাঠের পাশে সরকারি হাটের পাশে মামা খন্দকার নামে এক ব্যক্তি অবৈধ হাট বসিয়েছেন। এসব হাটে রয়েছে কিছু ভাড়াটে লোক। তারা সিলেটে নিয়ে আসা গরু বোঝাই ট্রাক জোরপূর্বক হাটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে বৈধভাবে কয়েদি হাট ও কদমতলি হাটের ইজারাদার লোকসানের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আফছার আজিজ মিলে মাছিমপুরের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কোনো অনুমতি না নিয়েই পশুর হাট বসিয়ে টাকা তুলছেন। এ ব্যাপারে সিলেট কাজিরবাজার পশুর হাটের ব্যবস্থাপক লোলন মিয়া জানান, সিলেটে সিটি কর্পোরেশনের বৈধ হাট দুটি এবং ব্যক্তি মালিকানার একমাত্র হাট কাজিরবাজারও বৈধ। বাকি মাঠগুলো অবৈধ। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জানতে চাইলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, অবৈধ হাটের ব্যাপারে পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। আর যারা বৈধভাবে হাট বসাতে চান, তাদের ইজারা দেবে সিটি কর্পোরেশন। অপরদিকে, সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়া স্কুল মাঠে একটি বৈধ পশুর হাট বসাতে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। সেখানে স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে সরকারি দলের লোকদের দেওয়ার পর মাঠটি মাত্র ৫ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার কামরুল আহসান বলেন, অনুমতি ছাড়া কোনো অবৈধ পশুর হাট নগরীতে বসতে পারবে না। মিটিং করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। অবৈধ হাটগুলো উচ্ছেদ করা হবে।ছামির মাহমুদ/এসএস/পিআর