শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের আবাদি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আবাদি জমি হারিয়ে গরিব কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি পাঠালেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, (সাবেক জেলা ফরিদপুর হালে) নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের ৬৩নং সিরঙ্গল মৌজা ও ৬৬নং বাজনপাড়া দুটি মৌজায় মোট সম্পত্তি রয়েছে ৪০ একর ২৮ শতাংশ। ওই জমি ছাড়া চাষাবাদ করার মতো আর কোনো জমি নেই এমন অনেক চাষি রয়েছেন এখানে।স্থানীয় প্রভাবশালী আতাউর রহমান কাজী ও মকবুল হোসেন রাড়ী ওই জমিতে চাষাবাদ করতে বাধা দিচ্ছে। শধু তাই নয়, জোরপূর্ব জমি দখলে নিয়ে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করছেন। আর পুকুর খননে নিষেধ করলে মারধর ও মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছেন তারা।এদিকে গত ১৫ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পক্ষে ফতে সিরঙ্গল গ্রামের আলী আকবর রাড়ীর ছেলে নিজাম হোসেন আতাউর রহমান কাজী ও মকবুল হোসেন রাড়ীর বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৬ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শরীয়তপুরের মিস পিটিশন ১৪৪ ধারা জারি করেন। ধারায় নিজাম হোসেন আদালতে অভিযোগ দায়ের করার পর বর্নিত মামলায় উভয় পক্ষকে আদালতে হাজির হওয়ার এবং উভয় পক্ষ স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। কেউ শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্ন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এ পিটিশন সত্ত্বেও আদালতের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে আতাউর রহমান কাজী ও মকবুল হোসেন রাড়ী কৃষি জমিতে পুকুর খনন করছেন।এ ব্যাপারে নড়িয়া থানার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও জমি উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তাদের এখানে জমি নেই কিন্তু অন্যের জমি লিজ নিয়ে তারা ফসল করেন। এখন যদি এখানে পুকুর খনন করা হয় তাহলে তারা আর ফসল ফলাতে পারবেন না। পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।কৃষক সোনাবালী বেপারী, হাচান বেপারী, মারফত আলী ও হাতেম বেপারী জানান, এখানে প্রায় ৪০ একর জমি রয়েছে। আমরা দীর্ঘ দিন থেকে চাষাবাদ করে আসছি। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আতাউর রহমান কাজী ও মকবুল হোসেন রাড়ী জোরপূর্বক জমি দখল করে মাছের প্রজেক্ট করছেন। তাদের কিছু বলতে গেলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি আমাদের জমি আমাদের ফিরিয়ে দিয়ে পুকুর খনন বন্ধ করুন।এ ব্যাপারে ফতেজঙ্গপুর সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা কৃষকের জমি দখল করে যে কাজ করছেন এটা ঠিক না। টাকা দিয়ে কিছু লোক কিনে তাদের নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ করছেন। কিন্তু এ প্রভাব একদিন থাকবে না।তবে অভিযুক্ত আতাউর রহমান কাজী ও মকবুল হোসেন রাড়ী এ বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, আমরা কারো জমি দখল করিনি। আমাদের জমিতে আমরা মাছ চাষ করার জন্য পুকুর খনন করছি। এতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা না। নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মইন উদ্দিন বলন, এ ব্যাপারে আমার জানা নাই। নড়িয়া উপজেলার দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদ বলেন, নড়িয়ার অনেক জায়গাতেই কৃষি জমিতে পুকুর খনন নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আতাউর রহমান কাজী ও মকবুল হোসেন রাড়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন জানান, বিষয়টি আমি জানি। দুইদিন আগে জমির কৃষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। পরে আমি কৃষি অফিসার পাঠিয়েছিলাম। ওই যায়গায় ১৪৪ ধারা জারি আছে। বিষয়টি দেখছি। আগামীতে সমন্বয় কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, জোরপূর্বক কৃষিজমি দখল করে মাছের প্রজেক্ট করলে কৃষকরা নড়িয়া ইউএনওর কাছে গেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। ছগির হোসেন/এফএ/পিআর