মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় কলেজছাত্রী শাম্মী বেগমকে (১৮) তার কথিত প্রেমিকরাই পরিকল্পিতভাবে জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করেছে।
রোববার মৌলভীবাজার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আলকুম মিয়া এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। রাজনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আলকুম আদালতকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তারা চারজন মিলে শাম্মীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে জঙ্গলে নিয়ে চারজন মিলেই হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের কাচারী করিমপুর গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে তারাপাশা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী শাম্মী আখতারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই এলাকার গনি মিয়ার ছেলে আলকুম মিয়ার (২৩)।
একই সময়ে ওই এলাকার তমজির আলীর ছেলে বরকত হোসেন সুমন (ওরফে বক্কর) (২৫), মকবুর মিয়ার ছেলে মো. দিপু মিয়া ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের ছকা মিয়ার ছেলে মাজহার মিয়ার (২৫) সঙ্গেও শাম্মী আখতারের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
এদিকে অন্য আরেক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ায় শাম্মী তাদেরকে তেমন একটা সময় দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে আলকুম মিয়ার সঙ্গে শাম্মী আখতারের কয়েকবার ঝগড়া হয়। ফোনে আলকুম তাকে হত্যার হুমকিও দেয়। গত বুধবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে ওই চারজন কাচারী এলাকায় বসে হত্যার পরিকল্পনা করে।
মাজহার মিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী বরকত হোসেন সুমন দুপুরে তাদের বাড়িতে একবার ঘুরে দেখে আসে। সন্ধ্যায় দিপু তাদের বাড়িতে গিয়ে নিহত শাম্মীর মায়ের সঙ্গে গল্প করতে থাকে।
ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার সময় মোবাইলে একটি মিসকল পাওয়ার পর শাম্মী আখতার টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন শুক্রবার বাড়ির পাশের জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ শাম্মী আখতারের বাবা হারুন মিয়ার কথার ভিত্তিতে প্রথমে বরকত হোসেন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. দিপু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তার বক্তব্যে অসংলগ্নতা পাওয়ায় তাদের আটক করা হয়।
একই সময়ে শাম্মী আখতারের সহপাঠীকে দেয়া মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপের একটি কথার সূত্র ধরে ওই এলাকার আলকুম মিয়াকে (২৩) আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আলকুম হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার পরিকল্পনাকারী মাজহারকে রাতেই পুলিশ তার বাড়ি থেকে আটক করে। নিহত শাম্মী আখতারের বাবা ওই চারজনকে আসামি করে রাজনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এএম/জেআইএম