গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বোর্ডবাজারের বাদে কলেমেশ্বর এলাকা থেকে অপহরণের পাঁচদিন পর মোসা. বীথি আক্তার নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটজনকে আটক করেছে।
নিহত বীথি শরীয়তপুরের জাঝিরা থানার নড়ীয়াবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের একমাত্র মেয়ে। বিল্লাল হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসী। মা নাসিমা আক্তার গৃহিণী। নিহতের নানা ধলু সরদার বোর্ডবাজার এলাকায় ভাংগারি ব্যাবসা করেন। এ সুবাদে বীথি ও তার মা ধলু সরদারের সঙ্গে বাদেকলেমেশ্বর এলাকার দুলাল মিয়ার ফ্ল্যাট বাড়ির দোতলায় প্রায় এক বছর দুই মাস যাবত ভাড়া খাকেন। বীথি স্থানীয় হাসেন আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
শিশুটির নানা ধলু সরদার জানান, গত সোমবার বিকেলে বীথি খেলতে বাসা থেকে নিচে নেমে নিখোঁজ হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের কাছে বীথির জন্য মুক্তিপণ হিসেবে চার লাখ টাকা দাবি করে। পরদিন তিনি বাদী হয়ে এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাদের বাসার নীচ তলার পেছনের দিকে টয়লেটের সানসেটে একটি বস্তা দেখে এবং দুগন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ বীথির মরদেহ উদ্ধার করে।
জয়দেবপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদেকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মাথা ও দেহের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/পিআর