দেশজুড়ে

এখন পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অতীতে জনগণ পুলিশের ওপর আস্থা হারালেও এখন পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। পুলিশ সেই পর্যায়ে চলে গেছে। 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যায় রাজশাহী পুলিশ লাইন্স স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর হোলি আর্টিসান হামলার আগের পুলিশ এবং এখনকার পুলিশ এক নয়। এ এক বছরে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গিবাদ কঠোর হাতে দমন করেছে। নিজের জীবন তুচ্ছ করে জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করেছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। দেশের জনগণও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করেছে।

মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের একটি বড় অংশ মাদক ব্যবসায়ী। রাজশাহী মহানগর পুলিশ তাদের মাদক থেকে ফেরাতে পুনর্বাসন কাজ করছে। এটি নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। সংশ্লিষ্টদের সবাইকে এ কাজে সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।

সীমান্তে মাদক পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদক উৎপাদন নেই। প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারে মাদকের উৎপাদন হয়। পরে সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসে দেশে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের অনুরোধে ভারত সীমান্তে ফেনসিডিল উৎপাদন বন্ধে কাজ করছে। অচিরেই মায়ানমারও মাদক উৎপাদন বন্ধে এগিয়ে আসবে। এ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে জানান মন্ত্রী।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক, সংরক্ষিত আসনের এমপি আথতার জাহান ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সুধীজন অংশ নেন। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালের ১ জুলাই বোয়ালিয়া, মতিহার, রাজপাড়া ও শাহ মখদুম থানা নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। আধুনিক, গণমুখী ও যুগোপযোগী পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যাত্রা শুরু করে আরএমপি। 

সদর দফতর, ২টি অপরাধ বিভাগ, সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ নিয়ে কাজ করছে এটি। ওই চার থানা ছাড়াও রয়েছে ১২টি ফাঁড়ি ও তিনটি পুলিশ বক্স।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/এমএস