ঠাকুরগাঁও শহরের নাট্য ব্যক্তিত্ব ও কলামিস্ট হিসেবেই পরিচিত আজমত রানার ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী আবির মাহাফুজ। সাভারের খরস্রোতা নদীতে গোসল করতে গিয়ে অকাল মৃত্যু হয়েছে তার।
মঙ্গলবার দুপুরে আবির সহপাঠীদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পানিতে ডুবে আবিরের মৃত্যুর খবর শুনে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আবিরের খুব কাছের ছোটভাই নেওয়াজ নিলয় তার ফেসবুকে লিখেছেন, 'আমার কাছ থেকে এক ভাই চলে গেল, খুব কষ্ট হচ্ছে এত্ত তাড়াতাড়ি তোমাকে হারাবো আবির ভাই। শুনে বিশ্বাস হচ্ছিল না। নিজের ভাইয়ের থেকে বেশি আদর করছো সবাইকে। আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক এই কামনা করি। মাফ করে দিও ভাই তোমার জানাজাতে শরিক হতে পারলাম না।'
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান সাবু জানান, মেধাবী শিক্ষর্থী আবিরের অকাল প্রয়াণে আমরা সকলেই শোকাহত। এভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মেনে নেওয়াটা খুবই কষ্টকর।
জানা গেছে, আবিরের বাবা আজমত রানা। ঠাকুরগাঁও শহরের একজন নাট্য ব্যক্তিত্ব ও কলামিস্ট হিসেবেই পরিচিতি তার। ঠাকুরগাঁও পিডিবি রোড পাওয়ার গ্রিড হাউসে কর্মরত আছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার ছিল আজমত রানার। শহরের বড়মাঠের পাশেই একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন পরিবার নিয়ে।
ছোট পরিবারটিকে নিয়ে ছিল আজমত রানার সকল স্বপ্ন। বড় ছেলে আবিরকে ইঞ্জিনিয়ার ও ছোট মেয়েকে ডাক্তার হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল তার স্বপ্ন।
আবির ২০১১ সালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে কৃতীত্তের সঙ্গে উত্তীর্ণ হলে সাভারের একটি কলেজে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি করে দেন বাবা আজমত রানা। আবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ছেলে আবিরকে নিয়ে সেই স্বপ্ন যেন মরিচিকায় পরিণত হয়েছে বাবার। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা আজমত রানা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। কোনো মতেই মেনে নিতে পারছিলেন না ছেলে আবির সকলকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাবে। আবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে। কিন্তু বাবার স্বপ্ন তো স্বপ্নই রয়ে গেল। শুধু পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ছেড়ে সে চলে গেল।
আজ বুধবার সাভার থেকে আবির মাহাফুজের মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছাবে। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
রবিউল এহসান রিপন/এফএ/পিআর