মাদারীপুর সদরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যার জেরে প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নতুন মাদারীপুর গ্রামে এ আগুন দেওয়া হয়। এতে জেলা বিএনপির নেতা লাভলু হাওলাদারের ঘরসহ ছয়টি বসতঘর পুড়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন মাদারীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত বছরের মার্চে আক্তারের লোকজন সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে।
মঙ্গলবার সকালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় আক্তারের চাচাতো ভাই আলমগীরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এই হত্যার জেরে সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ হাসানের দলের লাভলুর বসতঘরসহ ছয়টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ঘরবাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব ও পুলিশ। পরে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট গিয়ে নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। তবে এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের তাড়া করেন।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিক্ষুব্ধ লোকজন বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারা পাঁচ-ছয়টি ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এছাড়া আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতেও পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/একিউএফ