বন্যা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাত্নক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ । তিনি বলেছেন, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও আইভি ফ্লুইডসহ সবকিছুর পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বন্যা হতে পারে বলে আগাম তথ্য দেয়ার ফলে এক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়েছে। গত ৪৮ ঘন্টায় ২৪জন পানিতে ডুবে মারা গেছে যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।
মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে, বর্তমানে দুর্গত জেলা ২১টি ও উপজেলা ৪৫টি। দুর্গত ইউনিয়ন ২৪৪টি, আশ্রয়কেন্দ্র ১৪৪। মেডিকেল টিমের সংখ্যা ১৮২৪। বন্যায় ১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১শ ৭জন মারা গেছে।
তিনি জানান, গত ১ জুলাই থেকে ১৬ আগষ্ট পর্যন্ত সারাদেশে ডায়রিয়া, বজ্রপাত, সাপে কাটা, পানিতে ডুবে, চর্মরোগ, আঘাত ও অন্যান্য বিভিন্ন রোগে ৩ হাজার ৯শ’২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৭শ’২৮জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় ৩শ’৩০ জন, সাপের কামড়ে ১জন, পানিতে ডুবে ১১জন, চর্মরোগে ২জন, আঘাতপ্রাপ্ত ১৩ জন ও অন্যান্য রোগে ১শ’২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
বন্যা দুর্গত জেলাগুলো হলো সিলেট, মৌলভীবাজার, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, নীলফামারী, টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সুনামগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, রংপুর, নওগা, ময়মনসিংহ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এইচএম এনায়েত হোসেন, পরিচালক, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা (পিএইচসি) ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প পরিচালক ডা. আবুল হাশেম খান, ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের ইনচার্জ ডা.আয়েশা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/ওআর/জেআইএম/আরআইপি