প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা বলেছেন, বিচার করতে গেলে কে কী রাজনীতি করত সেটা দেখবেন না। নিরপেক্ষভাবে বিচার করার জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষের ‘জুডিশিয়াল ইন্টারপিটেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ আহ্বান জানান।
বিচারপতি এসকে সিনহা বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, বিচার করতে গেলে কে কী রাজনীতি করত সেটা দেখবেন না। যদি রাজনীতি করতে হয় আপনারা বিচারকের পদ ছেড়ে চলে আসেন। বিচার নিরপেক্ষভাবে করবেন। এটা আপনাদের প্রতি মানুষের অধিকার। তিনি বলেন, বিচারকদের বিচারিক জীবনে প্রবেশ করার আগের সব আদর্শিক চিন্তা পরিহার করে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে মনস্থির করে জুডিশিয়াল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এগুতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, হয়তো ছাত্রজীবনে বা পেশাগত জীবনে প্রত্যেকের চিন্তা-চেতনা থাকতে পারে রাজনীতি নিয়ে। আমরা বিচারকরা যখন বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং দেশে যারা বিচারক আছেন আপিল বিভাগে, হাইকোর্ট বিভাগ কিংবা নিম্ন আদালতে, তাদের বলব, আপনারা আপনাদের অতীত ভুলে যান। এই বিচার বিভাগের আপনি যখন বিচারক আপনাকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে।
আইনজীবীদের আরও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। আইনজীবী এবং বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের বিষয়ে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমেরিকার প্রধান বিচারপতি আন ওয়ারেন্ট জেলা আদালতে ওকালতি আরম্ভ করেছিলেন। এরপর তিনি সরকারি উকিল হয়েছিলেন। তার মেধার কারণে তিনি তিন তিনবার গভর্নর হয়েছিলেন। উনি ছিলেন রিপাবলিকান দলের। কিন্তু ১৯৭০ সালে যখন গভর্নর হন তখন তার নিরপেক্ষতার জন্য দলমত নির্বিশেষে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আগে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি আর রাজনীতি করবেন না। প্রধান বিচারপতি বলেন, শুধু বিচারকদের বলব না, আইনজীবীদেরও বলব। এই সমাজে আপনাদেরও অনেক কিছু করার আছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা এক হন।
বিশিষ্ট আইনজীবী সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সংবিধানের নীতি আদর্শ মানতেই হবে। কোনো শক্তি আছে সংবিধানকে অমান্য করবে? বঙ্গবন্ধুর সাক্ষরিত সংবিধান জাদুঘরে আছে। এটাকে কেউ অসম্মান করতে পারে? আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম। বঙ্গবন্ধু যেটা দিয়ে গেছেন সেটা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলেরই। ১৬ কোটি মানুষের। এ রাষ্ট্রে একজন নেই যে বঙ্গবন্ধুর দেয়া সংবিধানকে অসম্মান করবে। কোনো বাপের বেটা আছে, আসো আমার সামনে। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রের যে চরিত্র এটাকে রাজতন্ত্র বানানোর কারও অধিকার নাই। এখানে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র থাকবে।
অনুষ্ঠানে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকট জয়নুল আবেদিন, সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এফএইচ/ওআর/বিএ