দেশজুড়ে

খুলনায় ৬ জুটমিলের উৎপাদন বন্ধ

খুলনা অঞ্চলের ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার থেকে মিলগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়।

শ্রমিক ও মিল সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। পরবর্তীতে সকাল ১০টায় ক্রিসেন্ট, দৌলতপুর ও স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে।

এ সময় প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকরা মিল গেটের সামনের বিআইডিসি রোডে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ ৪টি মিল বন্ধের সংবাদ পেয়ে আটরা-গিলাতলা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ন এবং যশোর অভয়নগরের জে জে আই জুট মিলের উৎপান বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা।

পাটকলগুলোর সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে প্রায় অর্ধলক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছে। এসব পাটকলের শ্রমিকদের চার থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর মজুরির দাবিতে গত ১১ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের ব্যানারে ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আগামীকাল শুক্রবার খালিশপুরে শ্রমিক জনসভা রয়েছে। আগামী ২ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট কর্মসূচি রয়েছে। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে অপর ৩টি খালিশপুর, আলীম এবং কার্পেটিং জুট মিল চালু রয়েছে।

শ্রমিক নেতা মো. আব্দুল গফ্ফার বলেন, শ্রমিকরা মজুরির দাবিতে মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। এখনও কোনো সমাধান হয়নি। মিলে শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।

দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন মল্লিক বলেন, মিলের ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা প্লাটিনাম জুট মিল বন্ধ হওয়ার পর স্টারের শ্রমিকরা মিলের উৎপান বন্ধ করে দেয়।

ইস্টার্ন জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, দিঘলিয়া ও খালিশপুরের চারটি মিল বন্ধের সংবাদ পাওয়ার পর বেলা ২টার দিকে ইস্টার্ন ও জে জে আই জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। ইস্টার্ন জুট মিলে ৭ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাটকলের এক কর্মকর্তা জানান, মিলে আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তারা হঠাৎ করেই মিল বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

আলমগীর হান্নান/এএম/জেআইএম