মো. আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্মরণকালের বৃহত্তম আনন্দ মিছিল হয়েছে তার নিজের জেলা কিশোরগঞ্জে। শনিবার দুপুরে নাগরিক সমাজ আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল নামে।
অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের নগরে পরিণত হয় কিশোরগঞ্জ। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগের মতোই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গতিশীল ভূমিকা রাখবেন বলে আশবাদ ব্যক্ত করা হয় সর্বস্তরের মানুষের এ মিলন মেলা থেকে।
শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আর নেচে-গেয়ে ছোট ছোট মিছিল আসতে থাকে শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সামনে খোলা মাঠে। একই সময় গুরুদয়াল কলেজের সামনে নরসুন্দা মুক্তমঞ্চে চলতে থাকে দেশাত্মবোধক গান।
দুপুর নাগাদ লোকারণ্য হয়ে পড়ে গুরুদয়াল কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হয় স্মরণকালের বৃহত্তম আনন্দ শোভাযাত্রা।
হাতি-ঘোড়াসহ বাদ্যের তালে তালে মিছিলকারীরা নানা স্লোগান দিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। আনন্দ শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুরো শহর সাজানো হয় বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ডে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় শহরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল।
রাষ্ট্রপতির ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মো. আফজাল হোসেন, সংরক্ষিত আসনের এমপি দিলারা বেগম আসমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিপি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবারও গুরুদয়াল কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশে বক্তৃতা করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জবাসীর কাছে অতি আপনজন। তিনি আমাদের অভিভাবক। আজকের এ লাখো জনতার উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি কতোটা জনপ্রিয়।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিপি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক বলেন, আজকের দিনটি কিশোরগঞ্জবাসীর কাছে ইতিহাস হয়ে থাকবে।
নূর মোহাম্মদ/এএম/জেআইএম