দেশজুড়ে

আইনজীবীকে ফাঁসানোর অভিযোগ : বোয়ালখালীর ওসি বদলি

ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে শিক্ষানবীশ আইনজীবী সমর চৌধুরীকে ‘ফাঁসানো’র অভিযোগ উঠা চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার ওসি হিমাংশু দাশ রানাকে জেলা পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা জাগো নিউজকে বলেন, বোয়ালখালী থানার ওসি হিমাংশু দাস রানাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।

শনিবার বিকালে বদলির এই আদেশ কার্যকর করা হয়। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে অর্ডিনারি রিজার্ভ (এলওআর) করা হয়েছে।

এর আগে ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (দক্ষিণ) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন পুলিশ সুপার (এসপি)। কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) ও সহকারী পুলিশ সুপারকে (বিশেষ শাখা) কমিটির সদস্য করা হয়। তদন্ত কমিটি হিমাংশু দাস রানার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়, যা ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া গ্রহণের আগে জেলা পুলিশ লাইনে অর্ডিনারি রিজার্ভ (এলওআর) পদে বদলি করা হয়।

সমর চৌধুরী চট্টগ্রাম শহরে থাকলেও তার বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে। ওই গ্রামের লন্ডন প্রবাসী সঞ্জয় দাশের সঙ্গে তার কাকা স্বপন দাশের জমি নিয়ে বিরোধ আছে। স্বপন দাশকে আইনগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন সমর চৌধুরী।

অভিযোগ আছে, ওই ঘটনার জের ধরে ‘সঞ্জয় দাশের প্ররোচণায়’ চট্টগ্রাম রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি মনির-উজ-জামানের ‘নির্দেশে’ সমরকে গত ২৭ মে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর তাকে ইয়াবা ও অস্ত্র মামলার আসামি করা হয়।

বোয়ালখালী থানায় পুলিশের পাশে অস্ত্র হাতে সমর চৌধুরীর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এর মধ্যেই ডিআইজি মনির-উজ-জামানকে চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

গত ১২ জুন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সমর চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, এসআই আরিফুর রহমান ও এসআই আতিকউল্লাহ নেতৃত্বে বোয়ালখালী থানার একটি দল তাকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। ওসি হিমাংশু দাশ রানার নির্দেশে তাকে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার চেষ্টা ও থানায় নির্যাতনের অভিযোগও করেন সমর।

এই দুই এসআইকে ইতোমধ্যে বোয়ালখালী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এমবিআর