দেশজুড়ে

ফেসবুকে প্রেম অতঃপর পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ের মৃত্যু

আট মাস আগে ফেসবুকে পরিচয় অতঃপর প্রেম। দুই মাসের প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে চলে আসে তনা (২০)। ঘর বাধে ফতুল্লার তল্লা রেললাইন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তারেকুর রহমানের সঙ্গে। তবে সেই তনা চলে গেছে না ফেরার দেশে।সোমবার শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূ তনার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।এদিকে, তনার চেহারায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ এবং স্বামী ও শ্বশুরের পরনের পোশাকে রক্তের দাগ রহস্যের সৃষ্টি করেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে গৃহবধূ তনার মরদেহ নিয়ে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এসময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাহমিনা নাজনীন মৃত ঘোষণা করে মরেদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এসময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ নিয়ে যেতে চাইলেও হাসপাতালের কর্মচারীদের বাধার কারণে নিয়ে যেতে পারেনি। ডা. তাহমিনা নাজনীন জানান, গৃহবধূর চোখে ও কানে রক্ত লেগে ছিল। হাসপাতালে আনার এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়। তনার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু জানান, আট মাস আগে তারেকুর রহমানের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তনার (২০) পরিচয়। তনাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল এলাকায়। তনার মা তহুরা বেগম পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের একটি থানায় কর্মরত আছেন। তনার বাবা রকিবুল ইসলাম বাবর গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আরেকটি বিয়ে করেছে। তিনি বর্তমানে ঢাকার উত্তরা এলাকায় বসবাস করেন। আট মাস আগে পরিচয় ও ভালবাসার সম্পর্কের জের ধরে তনা ছয় মাস আগে তারেকের বাসায় চলে আসে। তখন আমরা মেয়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তনার মা তার মেয়েকে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বিয়ের দিন তনার বাবা ও তার এক বন্ধু এসেছিল। তিনি তারেকের পরিবারের বরাত দিয়ে আরো জানান, তনা ও তারেকের মধ্যে কোনো বিবাদ ছিল না। রোববার গভীর রাতে তারা ছাদের উপর উঠে বৃষ্টিতে ভিজেছিল। সকালে তারেক তনাকে ডাকতে গেলে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সবাইকে জানায়। এরপর তার শরীর নিথর থাকায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের ধারণা স্ট্রোক করে তনার মৃত্যু হয়েছে।এদিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, তনার স্বামী তারেকুর রহমানের মাথায় ব্যান্ডেজ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। তনার শ্বশুরেরও পরনের পাঞ্জাবীতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ লেগে ছিল। এ বিষয়ে তারেকের বাবা জানায়, স্ত্রীর মৃত্যুর কথা শুনে তারেক নিজেই হাসপাতালের দেয়ালে মাথা ঠুকে দিয়েছিল। সে কারণে তার মাথা ফেটে গেছে।ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, গৃহবধূর মুখে ও কানে রক্তের দাগ লেগে ছিল। তনার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এছাড়া মৃত তনার মা পুলিশের এসআই পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।সাহাদত হোসেন/এআরএ/পিআর