চাঁদপুরের দুই উপজেলা ফরিদগঞ্জ ও হাজিগঞ্জের ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও গোলাগুলিসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত।গুলিবিদ্ধ হয়েছে এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন। এদের মধ্যে হাসপাতলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অনেকে। কেন্দ্রে বিশৃঙ্খখলা করার সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শওকত বিএসসিসহ ১১ জন কর্মীকে দুটি মাইক্রোবাসহ আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটকরা সবাই ওই ইউনিয়নের আ.লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শওকত বিএসসির সমর্থক। এদিকে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার কারণে ৫টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রেখেছে স্বস্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। শনিবার সকাল থেকে ভোট চলাকালীন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ধানুয়া কেন্দ্রের সামনে বিএনপি আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অন্তত ১০ জন। বালিথুবা ইউনিয়নের লোহাগড় কেন্দ্রেও একই ঘটনা ঘটায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীরা। এখানে হাসান তারেক নামের এক পুলিশ সদস্য গুলিবদ্ধসহ আহত হয় ৬ জন। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেম্বার প্রার্থী মো. আলীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।ফরিদগঞ্জে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও বিশৃঙ্খখার কারণে ৮নং পাইকপাড়া শাহপুর ভোট কেন্দ্র, ১২নং চর পূর্ব লাড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১নং চরদুখিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এখলাসপুর ও উত্তর আলোনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। একই কারণে হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধব্যপুর ইউনিয়নের বাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে আহত হয় কমপক্ষে ১৫ জন।উল্লেখ্য, তৃতীয় দফার নির্বাচনে চাঁদপুরের ২৫টি ইউনিয়নের ২৩৯টি কেন্দ্রে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চললেও দুপুরের দিকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। চাঁদপুরের এ ২৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানসহ মোট ১৪৪৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭১ জন। ইকরাম চৌধুরী/ এমএএস/এবিএস