ঝিনাইদহে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম না থাকায় হতাশ চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে এনজিওর টাকা পরিশোধ করতে পানির দরে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আর এ সুযোগেই হাজার হাজার টাকা লাভ করে নিচ্ছেন সুযোগ সন্ধানী কিছু ব্যবসায়ী।ঝিনাইদহের ঈশ্বরবা গ্রামের চাষি সাইফুর রহমান বলেন, প্রতি একর জমিতে ধান উৎপাদন করতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ধানের সর্বোচ্চ ফলন হলেও প্রতি মণ ধানের দাম ৭০০-৭৫০ টাকা হলে ৩০-৩২ হাজার টাকার বেশি ধান বিক্রি হয় না। ফলে প্রত্যেককেই গুনতে হচ্ছে লোকসানের অঙ্ক।ঝিনাইদহের বারোবাজার এলাকার চাষি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ১ বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে যে খরচ হয় জমির ধান বিক্রি করলে সে টাকা ওঠে না। ঝিনাইদহ, বারোবাজার ও কোলাবাজারসহ বিভিন্ন জায়গার হাটগুলোতে প্রতি মন ধান কেনাবেচা হচ্ছে ৫৫০-৬৫০ টাকা করে। আর এ লোকসানের ভয়েই দিন দিন ধান চাষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন চাষিরা।ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর বোরো ধান চাষের টার্গেট ধরা হয়েছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার হেক্টর। তবে ধান আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৫শ ৪০ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লক্ষ ২ হাজার মেট্রিক টন চাল।ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ডেপুটি পরিচালক শাহ মো. আকরামুল হক জানান, কৃষককে তাদের উৎপাদিত ধান ধরে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হবে।আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/পিআর