দেশজুড়ে

রোয়ানুর প্রভাবে বরগুনায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও পায়ড়া নদী সংলগ্ন তালতলী এবং পায়রা নদী সংলগ্ন আমতলী উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ওইসব এলাকার অন্তত পঞ্চাশ হাজার মানুষ। এছাড়া ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩/৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের মোহনার তেতুলবাড়ীয়া বাজার ও আমতলীর বালিয়াতলীর দুইটি পয়েন্ট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ভিতরে প্রবেশ করে অন্তত ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া টানা তিন দিনের বৃষ্টির কারণে দুই উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের ডুবে কোটি টাকার মাছ ভেসে  গেছে।তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তেতুল বাড়িয়া বাজার সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে তেতুলবাড়িয়া ও নলবুনিয়া গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।আমতলীর উপজেলান আরপাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান একেএম নুরুল হক জানান, বালিয়াতলীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সুরঙ্গ দিয়ে পানি প্রবেশ করে বালিয়াতলী ও পশুর বুনিয়া গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।এছাড়াও তালতলী উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত মরানিদ্রা, আগাপাড়া, মেনিপাড়া, গোড়াপাড়া, অংকুজানপাড়া, মোয়াপাড়া, নামিশেপাড়া, ছোবাহাপাড়া, খোট্টারচর, জয়ালভাঙ্গা, আশারচর, সকিনা, আমখোলা এবং আমতলী উপজেলার লোছা, বৈঠাকাটা, পশ্চিম ঘটখালী, আংগুলকাটা, গুলিশাখালীর জেলেপাড়ার তিন শতাধিক কাঁচা ঘড়বাড়ি তলিয়ে গেছে।বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, রোয়ানুর প্রভাবে পায়রা নদীতে ৩/৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। ভাঙা বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।আঠার গাছিয়া গ্রামের রুস্তুম আলী হাওলাদার জানান, মাছের ঘের ডুবে তার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মাছে ভেসে গেছে। তেতুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস ছোবাহান জানান, পুকুর ডুবে তার প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।কলাপাড়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত তিন দিনে ১৮০ মিলি লিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বদরুল আলম জানান, অতি বৃষ্টির ফলে কৃষকের মিষ্টি আলু, বাদামসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মোহা বসিরুল আলম বলেন, বৃষ্টি এবং উঁচু জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরগুনা সদর উপজেলা টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছে যে খবর এসেছে তাতে অতিবৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া এবং জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সহস্রাধিক গাছ-পালা ভেঙে পড়ে বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমিসহ পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের এবং তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি।সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এআরএ/এবিএস