কোনো প্রকার ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই ৩৫ ঘণ্টা ধরে বরগুনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বরগুনায়। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড তাপদাহে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে বরগুনাবাসীর প্রাণ। বন্ধ রয়েছে শহরের পানি সরবরাহ। নষ্ট হতে বসেছে কয়েক হাজার অধিবাসীর ফ্রিজে রাখা খাদ্য সামগ্রী। বিপাকে পড়ছে জেনারেল হাসপাতালসহ দশটিরও বেশি প্রাইভেট ক্লিনিক। গরমে লাইট ও ফ্যান না চলায় নাকাল এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের শত শত রোগী।এছাড়াও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীরা। সোমবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বরগুনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো।শহরের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল বাশার জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে বাসায় থাকা এখন খুব কষ্টকর। এছাড়াও বাসায় পানি নেই, তাই গোসলও করতে পারিনি। ফ্রিজের খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।আসিফ আহমেদ নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানান, বাসায় থাকাই কষ্টকর। তারপরও পরীক্ষার কারণে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়ায় শতভাগ মনোযোগ নেই বলেও জানান তিনি।মো. আসাদুজ্জামান নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ছেলের পরীক্ষা চলছে। অথচ গরমের কারণে তার পড়ায় কোনো মনোযোগ নেই। কোনো কারণ ছাড়াই প্রায় ৩৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই এটা মেনে নেয়া অসম্ভব বলেও জানান তিনি।মো. মিজানুর রহমান নামের শহরের এক ব্যবসায়ী জানান, এভাবে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। বিদ্যুতের কারণে কোনো প্রকার কাজ না করলেও তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।এ বিষয়ে বরগুনার বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রোকৌশলী মো. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/বিএ