বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের ছোট্ট শিশু রবিউলকে (১০) নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একমাত্র আসামি মিরাজকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু তাহের এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার পর জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে এ রায়ে দেশের জনগণের প্রত্যাশ পূরণ হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরগুনার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ।সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরগুনার সভাপতি মো. আবদুর রব ফকির বলেন, রবিউলের হত্যাকারী ও মামলার একমাত্র আসামি মিরাজকে ফাঁসির আদেশ দেয়ায় আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। এ মামলার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করে শিশু হত্যার বিচারে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও হত্যা রোধ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।বিশিষ্ট সমাজসেবক ও নাট্যকর্মী সুখরঞ্জন শীল বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির রায় ঘোষণা করায় অনেকের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। রবিউল হত্যাকাণ্ডে দেশ-বিদেশের সবাই মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। হত্যাকারী সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ায় প্রত্যেকেই স্বস্তিবোধ করছেন।বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই আমরা সংবাদকর্মীরা সংবাদ পরিবেশন করেছি। মামলার প্রত্যেকটি ধাপে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘটনেও আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করেছি। আমাদের এই পরিশ্রম সফল হয়েছে। এখন এ মামলার রায় উচ্চ আদালতেও বহাল রেখে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দ্রুত শেষ করে মিরাজের ফাঁসি কার্যকরের জন্য রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাচ্ছি।বরগুনার সিনিয়র সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কোনো ধরনের হত্যাকাণ্ডই আমাদের কাম্য নয়। আর রবিউলের মতো এক শিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করায় সারাদেশ ফুঁসে উঠেছিল। আজ সেই সব মানুষের ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।তরুণ সাংবাদিক সোহেল হাফিজ বলেন, রবিউল হত্যার পর মানুষের অভাবনীয় জাগরণটি ছিল ইতিবাচক। রবিউলের হত্যাকারী পাষণ্ড মিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। তাই অনেকটাই স্বস্তিবোধ করছি। রায়ে আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হলো।শহরের কলেজ ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘রবিউল আমার রক্তের কেউ না। পত্রপত্রিকায় মামলাটির খুঁটিনাটি পড়তাম। আজ রায়ের আগে তাই আদালতে চলে এলাম। রায়ে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।রবিউলের গ্রাম ছোট আমখোলার বাসিন্দ্র সেলিম নামে একজন জানান, রায় শোনার পর মনে হলো, নিজের কোনো আত্মীয়র বিচার বোধ হয় পেলাম। রবিউল মারা যাওয়ার পর থেকে বুকের ভেতর যে একটা চাপা কষ্ট ছিল, সেটি অনেকটাই দূর হয়ে গেছে।উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ আগস্ট রাতে পেতে রাখা জালের মাছ চুরির অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা উইনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের ১০ বছরের শিশু রবিউলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ পাশের খালে ফেলে রাখে মিরাজ। পরের দিন ৪ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় লকরার খালে রবিউলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।ওইদিনই রবিউলের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচ আগস্ট শিশু রবিউলের পিতা দুলাল মৃধা বাদী হয়ে তালতলী থানায় অভিযুক্ত মিরাজকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই মিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরে ৬ আগস্ট আমতলী উপজেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় রবিউলকে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিরাজ। পরে ২৩ আগস্ট মিরাজকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/বিএ