ঝিনাইদহের পাখা পল্লীর কারিগরদের এখন সুখের সময়। তাদের তৈরি হাজার-হাজার হাত পাখা এখন ঝিনাইদহ থেকে যাচ্ছে যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলায়। নানান ডিজাইন ও রং-বেরংয়ের এসব পাখা বিক্রি করে ঝিনাইদহ জেলার হাজরো পরিবার টিকে আছে বছরের পর বছর। কাজের ব্যস্ততায় শরীরের ঘাম মাটিতে পড়লেও নিজেদের তৈরি তালপাখার বাতাস নেয়ার সময় নেই তাদের।দুলালমুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষেরা এই পাখা তৈরির কাজ করতেন। পৈতৃক এই পেশাকে এখন টিকিয়ে রাখতে দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ।পাখা কারিগর মোস্তফা ও আব্দুর রহিম জানান, পুঁজি না থাকায় এবং অনেক দূর থেকে পাতা কেনার কারণে পরিবহনে অনেক বেশি খরচ পড়ে যায়।জানা গেছে, হাতপাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তাল পাতা। শীত মৌসুমে ফরিদপুর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চারাগাছের পাতা কিনে আনেন। তারপর পাতা রোদে শুকিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন।পানি থেকে উঠিয়ে নরম ভেজা পাতা গোলাকার করে কেটে মাঝখান থেকে দু-খণ্ড করেন। এরপর বোঝা বেঁধে পাতা ঘরে রেখে দেন এবং সেখান থেকে নিয়ে সারা বছর বাড়িতে বসে তালপাখা তৈরি করেন। একটি তালপাতা থেকে দুটি তালপাখা তৈরি হয়।কারিগর মজনু মিয়া জানান, বছরে ২/৩ মাস তাল পাখার বেশি চাহিদা থাকে। চৈত্র থেকে শুরু করে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যস্ত বিক্রির মৌসুম হলেও চৈত্র ও বৈশাখ মাসই পাখা বিক্রির উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, প্রতিটি পাখা তৈরি পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা খরচ হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ টাকা। অবশ্য পাইকারি ব্যবসায়ীরা উপরোক্ত দামে পাখাগুলো তাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। তারা একটি পাখা ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে। বেশি গরমের মধ্যে হাত পাখার চাহিদা বেশি হওয়ায় সে সময় একটি পাখা ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করে।তিনি আরও জানান, একজন কারিগর প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি তালপাখা তৈরি করতে পারেন। ফলে প্রতিটি কারিগর বিক্রির মৌসুমে দিনে যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে পারেন। পাইকাররা এখন বাড়ি থেকেই পাখা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পরিবহন খরচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন।কালীগঞ্জ ইএনও মানোয়ার হোসেন মোল্যা জানান, অবশ্যই সরকার তাদের প্রতি সচেষ্ট আছে। তারা যদি আবেদন করে তবে অবশ্যই সহজ শর্তে তাদের সরকারি ঋণ দেয়া হবে। অন্যদিকে, এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যা-যা করা যায় তার সবই করা হবে।এসএস/এবিএস