আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘সরব’ হয়ে ওঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। দিন-রাত সব সময়ই শক্তিশালী এ মাধ্যমটিতে জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতৃবৃন্দের রয়েছে অবাধ বিচরণ। তবে এক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে জেলা বিএনপি। ফেসবুকে বিএনপি অনেকটাই ‘লাপাত্তা’। হাতে গোনা কয়েকজনের দেখা মিলে এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিতে।জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া জেলার সবকটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে অনেকটা ‘কৌশলী’ হয়েই ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগসহ নানা কর্মকাণ্ডের স্থিরচিত্র মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এতে করে প্রার্থী লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব তৈরি হচ্ছে বলে অভিমত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।ফেসবুকে রাজনৈতিক এ প্রচারণার দৌড়ে এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাড. লোকমান হোসেন, জেলা যুব মহিলা লীগ নেত্রী ফারহানা মিলি, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শোভনসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। যখন-যেখানে আওয়ামী লীগ কিংবা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোনো অনুষ্ঠান হয় সেখান থেকেই এসব নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সবার মাঝে। অনুষ্ঠান ছাড়াও দলের এমন অনেক কর্মী রয়েছেন যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকাসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র কোনো নেতার সঙ্গে সেলফি তুলে সঙ্গে দু-চার লাইন কথা লিখে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন।ফেসবুকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য কি এবং এতে কেমন সাড়া মিলছে জাগো নিউজের এমন প্রশ্ন ছিল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাড. লোকমান হোসেনের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান যুগে ফেসবুক একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই মাধ্যমে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে পারলে ব্যক্তি-সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্র লাভবান হবে। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব তৈরি করা এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আমার শক্ত অবস্থান জানান দেয়ার জন্য আমরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে সক্রিয় থাকি। এতে করে দলীয় প্রার্থী যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি নেতাকর্মীদের মাঝেও চাঙ্গাভাব তৈরি হচ্ছে।তবে ফেসবুকে রাজনৈতিক প্রচারণায় অনেকটাই পিছিয়ে জেলা বিএনপি। দলটির কোনো কর্মকাণ্ডের খবরাখবর কিংবা চিত্র ফেসবুকে তেমন পাওয়া যায় না। জেলা ছাত্রদলের হাতে গোনা দু-একজনকে ফেসবুকে পাওয়া গেলেও দলীয় প্রচারণামূলক তোমন কোনো পোস্ট থাকে না তাদের ফেসবুক ওয়ালে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ কবীর আখন্দ জাগো নিউজকে জানান, বহির্বিশ্বে আমাদের দলের অনেক শুভাকাঙ্খী রয়েছে। তাদের মাঝে দলীয় কর্মকাণ্ডগুলোকে ছড়িয়ে দিতে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দেয়া হয়ে থাকে। এতে করে আমরা ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার তো জোর-জবরদস্তি করে সব কিছুতেই এগিয়ে রয়েছে। তাই তারা ফেসবুকে আমাদের থেকে বেশি সক্রিয়।এসএস/পিআর