নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের বাসায় এসেছেন। বাসায় ফিরে তিনি সাংবাদিকসহ কারো সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি ঢামেক ছাড়েন। হাসপাতাল ছাড়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে জবাবে শ্যামল কান্তি বলেন, ‘আল্লাহ যেদিকে নেয়, সেই দিকেই যাবো।হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে স্ত্রী সবিতা হালদার ছিলেন। এ সময় তিনি পুলিশ পাহারায় বেরিয়ে যান।এদিকে বিকেল সোয়া ৪টায় শ্যামল কান্তি ভক্ত ও তার স্ত্রী সবিতা হালদার নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর খানপুর মোকরবা সড়কে ভাড়ায় থাকা ফ্ল্যাট বাসায় এসে উঠেছেন বলে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মোকরবা রোডের ওই বহুতল ভবনে গেলেও সবিতা হালদার তাদের ফ্ল্যাটে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেননি। পরে বাসার নিচে সাংবাদিকরা মোবাইলে সবিতা হালদারের সঙ্গে কথা বললে জানান, তারা বিকেলেই বাসায় এসে পৌঁছেছেন।সবিতা বলেন, হাসপাতালে যাতায়াতসহ চিকিৎসা নিতে গিয়ে আমরা সবাই খুব ক্লান্ত। নারায়ণগঞ্জ আসার পর কিছুটা ভয় ও আতঙ্ক আছি। তাছাড়া ওনার আরো বিশ্রাম দরকার। তাই এখন আমরা কারো সঙ্গে কথা চলতে চাচ্ছি না। দু-একদিন গেলে কথা বলবো। তখন আপনারা আইসেন।উল্লেখ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করে জনতা। স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান সবার সামনে ওই শিক্ষককে কান ধরে উঠবসও করান। পরে শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি। কিন্তু পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় ওই স্কুল পরিচালনা কমিটিকে বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।শাহাদাত/এমএএস/পিআর