রাজশাহীর চারঘাটে ২০০৯ সালের একটি খুনের মামলাকে ‘রাজনৈতিক’ উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন আসামিরা। এ আবেদনে জোরালো সুপারিশ করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু সাঈদ চাঁদ।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই সুপারিশ করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার বাদী রঞ্জু আহমেদ। তিনি জানান, ২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর রায়পুর গ্রামের রঞ্জু আহমেদ মোটরসাইকেলে করে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে প্রতিপক্ষরা তার ওপর হামলা চালান। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বাবা শামসুল ইসলাম, ভাই মনিরুল ইসলাম ও মন্টুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মন্টু মারা যান।
এ ঘটনায় রঞ্জু আহমেদ বাদী হয়ে চারঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩-এ বিচারাধীন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩০ জুন মামলার আটজন আসামি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন করে মামলাটি ‘রাজনৈতিক’ উল্লেখ করে প্রত্যাহারের দাবি জানান। ওই আবেদনে আবু সাঈদ চাঁদ নিজের সইসহ ‘জোর সুপারিশ করছি’ মন্তব্য লিখেছেন।
রঞ্জু আহমেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসন বিষয়টি আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে মতামতের জন্য পাঠিয়েছে। এমন তথ্য পেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেছি। মামলাটি টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে রঞ্জু দাবি করেন, জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ একসময় ৯ বিঘা জমি দিয়ে আপস করতে চেয়েছিলেন। পরে বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদ মামলাটি তুলতে ৫০ লাখ টাকার প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাবে রাজি না হলে আসামিপক্ষের সমর্থকরা ভয়ভীতি দেখান। চাঁদ আসামিদের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেছেন এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে প্রত্যাহার করাতে চেষ্টা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত মন্টুর স্ত্রী লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘খুনের মামলা টাকার বিনিময়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’
এ বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি ইমদাদুল হক ওরফে আবু তালেব বলেন, ‘আমরা বিএনপি করি। তাই মামলায় আসামি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদও সেসময় বাদী রঞ্জুকে আপস করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি পাত্তাই দেননি। এখন চাঁদ চেয়ারম্যান (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ চাঁদ) সুপারিশ করেছেন।’
পারিবারিক বিরোধের খুনের মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নাই, আমার কোনো মন্তব্য নাই। এটা পারিবারিক বিরোধে খুন না কি রাজনৈতিক খুন সেটা এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেন।’
সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/এমএস