সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক রাখে। আর যথাযথ কর্তৃপক্ষ সঠিক তথ্য সরবরাহে অঙ্গিকারবদ্ধ। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে অনলাইন সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। তারই অন্যতম একটি ইউপি অনলাইন পোর্টাল। যেখানে দেশে ডিজিটাল এবং তথ্য বিপ্লব ঘটছে, সেখানে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পিছিয়ে আছে যোজন দূর। উপজেলার প্রায় সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইট ভুল তথ্যে ভরপুর। ফলে তথ্য বিভ্রাটে পড়ছে অনলাইন ব্যবহারকারীরা। অজ্ঞতা আর অবহেলাই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা যায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের অধিকাংশ ওয়েবসাইটে মানচিত্র, ছবির গ্যালারিতে অপশনে ইউনিয়নের মানচিত্র, ছবি নেই। নেই মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা। ইতিহাস অপশনে কিছু তথ্য দেয়া থাকলেও কোনো ইতিহাস নেই। প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের অপশনে ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম,৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ও ১১নং চর দুঃখিয়া পূর্ব, ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ এবং ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে একই ব্যক্তিদের নাম লেখা রয়েছে। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা হলেন, মো. রাজা মিয়া, মো. জহিরুল হক খান, উনার পরিচয় হিসেবে দেখানো হয়েছে চাঁদপুরের সাবেক ডিসি। ফরিদগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে সেখানে মো. দেলোয়ার হোসেনের নাম রয়েছে। উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য (আওয়ামী লীগ) বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া। মূলত তার বাড়ি হলো ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে। এছাড়া অন্য দুইজনের বাড়িও ওই ইউনিয়নে। তাদের একজন চাঁদপুরের সাবেক ডিসি (তাদের দেয়া তথ্য মতে) মো. জহিরুল হক। এ ব্যাপারে এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, তিনি যদি ফরিদগঞ্জ উপজেলার হয়ে থাকেন, তা হলে চাঁদপুরের ডিসি হওয়ার কথা নয়। তৃতীয় জন হলেন, মো. দেলোয়ার হোসেন। তাকে মুক্তিযুদ্ধে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কমান্ডার হিসেবে দেখানো হয়েছে। মূলত তিনি কোনো কমান্ডার ছিলেন না।১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে প্রখ্যাত ব্যক্তিদের তালিকা নেই। অথচ এ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছেন দেশসেরা একাধিক ব্যক্তি। ১৬নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ ব্যবস্থা নামক অপশনে গ্রাম এবং ওয়ার্ডের নাম লেখা রয়েছে। গ্রামভিত্তিক লোক সংখ্যা অপশনে গ্রামের নামও নেই, লোক সংখ্যাও নেই। ইউপির ওয়েবপোর্টাল এবং স্থানীয় ইফার তথ্যে দেখা যায়, ফরিদগঞ্জে দিন দিন মসজিদের সংখ্যা কমছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ১৯৮৪ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে নতুন মসজিদ তৈরি হয়েছে প্রায় শতাধিক। ফরিদগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, পৌরসভা ছাড়া উপজেলায় মোট মসজিদের সংখ্যা মাত্র ৫৯টি। ইসলামী ফাউন্ডেশনের (ইফা) ফরিদগঞ্জ শাখার তথ্যমতে ৩৭৮টি। উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মোট মসজিদের সংখ্যা ৫৮৯টি।১৯৮৪ সালের ৭ জুনে প্রকাশিত জেলা পরিষদ কুমিল্লা কর্তৃক প্রকাশিত কুমিল্লার ইতিহাস গ্রন্থে ওই সময় ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের সংখ্যা দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০০। ৩২ বছর পর ফরিদগঞ্জ ইসলামী ফাউন্ডেশন জরিপে মসজিদের সংখ্যা মাত্র ৩৭৮টি। সচেতন মহলের প্রশ্ন বাকি মসজিদ গেল কই ? তথ্য বিভ্রাটের বিষয়ে ১৫নং রুপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘আমাদের ওয়েবসাইট ঠিক আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এটা একটা বড় ধরনের ভুল। এসব ভুল দ্রুত সংশোধন করা হবে।এআরএ/পিআর