বিদ্যুৎ বিল ১৭ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় বগুড়া পৌর ভবন, পানির পাম্প ও সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে প্রায় ৬ হাজার পানির গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। আতঙ্কে রয়েছেন আরো ১১ হাজার গ্রাহক। গ্রাহকদের অভিযোগ, ট্যাক্স দেয়ার পরেও এই দুরবস্থা কেন? এখন জনস্বার্থেই মেয়রের উচিত বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে বসে দ্রুত সমাধান করা। সোমবার দিনভর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বগুড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ- ১, ২ ও ৩ এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সকাল থেকে বগুড়া পৌরসভা ভবনসহ শহরের জলেশ্বরীতলা, শেরপুর রোড, মালতিনগর, রহমাননগর, নূর মসজিদ লেন, এস চ্যাটার্জি লেন, বকশীবাজার, জহুরুল নগর, বাদুরতলা, নামাজগড়, চকসূত্রাপুর, প্রেসপট্টি, ঝাউতলা, বড়গোলা, দত্তবাড়ী, কাটনারপাড়া করনেশন স্কুল, হাকিরমোড়, শিববাটি এলাকার সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। একইসঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পৌরসভার ১৪টি পানির পাম্পের মধ্যে চারটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। প্রথম শ্রেণির এই পৌরসভায় পানির মোট গ্রাহক ১৭ হাজার। বগুড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রামাণিক জানান, তার বিভাগেই বকেয়া রয়েছে ৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বারবার বকেয়া পরিশোধের জন্য পৌর মেয়রকে তাগাদা দিলেও কোনো ফল হয়নি। এমনকি জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে তাকে বকেয়া পরিশোধের জন্য বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। এখন পর্যায়ক্রমে শহরের বনানী থেকে মাটিডালী ৯ কিলোমিটার ও সাতমাথা জিরো পয়েন্ট থেকে তিনমাথা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারসহ অন্যান্য সড়কের বাতি এবং বাকি আরো ১০টি পানির পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বগুড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিদ্যুৎ বিল আদায়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাপ সৃষ্টি করছেন। মেয়র বিদ্যুৎ বিল কীভাবে দেবেন এ ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে একটা সমঝোতায় আসতে পারেন। কিন্তু তিনি প্রায় ১৫ বছর যাবৎ এ বিষয়টি আমলেই নিচ্ছেন না। তবে মাঝে মাঝে অল্প কিছু বিল দিয়েছেন। বকেয়ার কারণে বাধ্য হয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে। বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান জানান, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গেলে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ অতিরিক্ত বিল করেছে। পৌরকরও লাখ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পৌরসভার ১৪টি পানির পাম্পের গ্রাহক ১৭ হাজার। এর মধ্যে চারটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে ৬ হাজার গ্রাহক পানির জন্য দুর্ভোগে পড়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে এ পদক্ষেপ নেয়া ঠিক হয়নি। দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকার পরও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে বিল পরিশোধ ব্যাপারে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সামর্থ্য নেই, কী কথা বলবো। জলেশ্বরীতলা এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে রাতে রাস্তা অন্ধকার থাকবে। এই অভিজাত এলাকার বিপণিবিতানগুলোতে রাত ১টা পর্যন্ত কেনাকাটা হয়। অন্ধকার থাকার কারণে ক্রেতাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত পৌর মেয়রকে পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা আমরা পৌরবাসী ট্যাক্স দেই নাগরিক সুবিধার জন্য। আমাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সেউজগাড়ি এলাকার পৌরসভার প্রধান জলাধারের কেয়ারটেকার ইব্রাহিম জানান, বেলা ১১টার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। তাদের কাছে যতটুকু পানি ছিলো তা সরবরাহ করা হয়েছে। এখন স্টক শূন্য। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে গোসল ও রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভার উচিত জনগণের সুবিধার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে বসে বিষয়টি সুরাহা করা।এফএ/পিআর