স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অভিযানে ২২ হাজার ৪৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ হাজার ৬৬০ রাউন্ড গুলি, ৭৯৯ রাউন্ড কার্তুজ, ১ হাজার ৮৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মামলা ও ওয়ারেন্টভিত্তিক অভিযানে ৪২ হাজার ১৬৪ জনসহ মোট ৬৪ হাজার ৬২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চলাচলরোধে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের হারও বেড়েছে।
এর পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ ও বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চোরাচালান চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের অভিযানে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, পাইপ গান, গুলি, ডেটোনেটর, গাঁজা ও ইয়াবাসহ একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
অন্যদিকে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, মর্টার শেল, মাইন সেফটি ক্যাপ, গাদা বন্দুক, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, সিগারেট ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া, সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ১৪ জন নিরস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলেও জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) দেশব্যাপী জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৫টি মামলায় ২ হাজার ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয় গাঁজা, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ফেনসিডিল, আইস, রেকটিফাইড স্পিরিট ও কোডিন সিরাপ।
পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিজিবি গত এক সপ্তাহে সারাদেশে ১ হাজার ১৭১টি শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ৮টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৩০৬ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং আগামীতেও এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
টিটি/এএমএ