`কলেজে থাকবে শিক্ষার পরিবেশ। থাকবে খোলামেলা মাঠ। সেখানে সরকারি অন্য দফতর কেন? আমরা অধ্যক্ষের এমন সিদ্ধান্ত মানি না। তিনি আমাদের ঐতিহ্যবাহী কলেজের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।` নিজের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঠিক এভাবেই জানালেন বগুড়া আযিযুল হক কলেজের ছাত্র এহতেসাম মাহমুদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্পতি বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের জেলা কার্যালয় ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যমানের কলেজের ৪০ শতাংশ জায়গার উপরে ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ তাদের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের জায়গায় সরকারি দফতর হলে এখানে শিক্ষার কোনো পরিবেশ থাকবে না। পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘সদর দফতর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ চলছে। এজন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৫ এপ্রিল কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণের জন্য দেরি করে ফেলে। এরপর প্রায় মাসাধিকাল হলো সরকারি আযিযুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে ভিত্তি ঢালাইয়ের জন্য মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করা হয়। এক বছরের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করতে হবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বগুড়া শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে অতিরিক্ত জায়গা থাকলে এটি নেয়া যেতে পারে। আর সরকারের একই অধিদফতরের আওতার জায়গা হবার কারণে এই হস্তান্তরে সুবিধা বেশি। তবে জায়গার মালিক কর্তৃপক্ষ যদি এই ব্যাপারে বিরোধীতা করে তাহলে সেই জমি নেয়ার সুযোগ নেই। আর বগুড়া আযিযুল হক কলেজের ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্মতি দিয়েছে বলেই সেখানে ভবন হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তিতে অধ্যক্ষ অনুমতি দেন। তবে সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। আর এই কার্যালয় নির্মাণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ৬৩ একর আয়তনের ক্যাম্পাসের উত্তর-পূর্ব দিকে জহুরুলনগর গেট এলাকায় প্রায় ৪০ শতক জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য দাঁড়ায় ১০ কোটি টাকা।অনুসন্ধানে জানা যায়, মন্ত্রণালয় বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী এই কলেজে শিক্ষা প্রকৌশলের ভবন নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়নি। এরপরও অধ্যক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে সেখানে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে গত ৩ দিন হলো নির্মাণ কাজ বন্ধ করে রাখা হয়।কলেজের সাবেক ছাত্র কামরুল হুদা উজ্জল বলেন, যেখানে সরকারি দফতর নির্মিত হচ্ছে তার পাশেই হচ্ছে কলেজের নতুন ছাত্রী হোস্টেল। শিক্ষা প্রকৌশল দফতরে বছর জুড়েই ঠিকাদার আর ভাড়াটে সন্ত্রাসী মাস্তানের আনাগোনা থাকে। টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-সংঘাতও লেগে থাকে। এমন একটি সরকারি দফতর ক্যাম্পাসের সীমানায় আনা হলে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। আর কলেজের অধ্যক্ষও শিক্ষার্থীদের কথা না ভেবে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, সরকারি আযিযুল হক কলেজ ও শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয় দুটোই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষা প্রকৌশলের জেলা কার্যালয় হচ্ছে। আর কলেজের অধ্যক্ষও এই কাজে তার সম্মতি দিয়েছেন।সরকারি আযিযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সামস-উল আলম বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের জেলা কার্যালয় নির্মাণে কলেজ প্রশাসনের কোনো আগ্রহ ছিল না। তারপরও আমারা বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে রাজি হয়েছি। তবে আমি বুঝিনি এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি করবে। এখন শিক্ষা প্রকৌশলকে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়ার কথা বলা হলেও তারা তা করেনি। এ কারণে এখন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এখন আমাদের জায়গা আমরা ফিরিয়ে নিবো।লিমন বাসার/এসএস/এবিএস