আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় বৈঠক

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রথমবারের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রিদেশীয় বৈঠক। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একসঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বৈঠক হয়।

ক্রেমলিনের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই আলোচনা সব দিক থেকেই ফলপ্রসূ ছিল। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় কার্যকরী দলের প্রথম বৈঠক আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এ বৈঠকের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনা দুই দিন ধরে চলবে।

শুক্রবার আবুধাবিতে উইটকফ, কুশনার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল রাশিয়ার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জেনারেল ইগর কোস্তিউকভ, যিনি রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর পরিচালক।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তি চুক্তির জন্য চাপ দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ যুদ্ধ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এদিকে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার দখলে থাকা ভূমির ভবিষ্যৎ অবস্থান এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তবে শান্তি প্রস্তাবগুলো প্রায় প্রস্তুত। উভয় পক্ষই এর আগে ভূখণ্ড প্রশ্নকে আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষ করে পুতিন দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে। তবে জেলেনস্কি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২২ সাল থেকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের মাধ্যমে যে ভূখণ্ড ইউক্রেন ধরে রেখেছে, তা ছাড়তে তিনি রাজি নন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কেএম