সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও তার মেয়েসহ পরিবারের ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তলব করা চিঠিতে তাদের আগামী ২৯ জানুয়ারি এবং ১, ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন- সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আজিজ খান, মেয়ে আয়েশা আজিজ, পরিবারের সদস্য ফরিদ খান, সানাদিনা খান, সালমান খান, জাফর উম্মিদ খান, লতিফ খান, ফয়সাল করিম খান, ফারহান করিম, ফাদিয়াহ খান, ফারহানা খান ও আজহারুল হক।
জানা গেছে, আজিজ খানের বিরুদ্ধে ২২৬ কোটি টাকা, আঞ্জুমান আজিজ খানের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি, ফরিদ খানের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি, আয়েশা আজিজের বিরুদ্ধে ২১৯ কোটি, সানাদিনা খানের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি, সালমান খানের বিরুদ্ধে ৩৯ কোটি, জাফর উম্মিদ খানের বিরুদ্ধে ৫২ কোটি, লতিফ খানের বিরুদ্ধে ৬৫ কোটি, ফয়সাল করিম খানের বিরুদ্ধে ৩৭ কোটি, ফারহান করিমের ৩ কোটি, ফাদিয়াহ খানের ৩৭ কোটি, ফারহানা খানের ২৫ কোটি এবং আজহারুল হকের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের যৌথ একটি টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, তার স্ত্রী ও তার মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৭১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সত্যতা যাচাই-বাছাইয়ে পৃথক পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছিল। বিষয়টি জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আজিজ খানের নামে ৩৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ১০৯ টাকা, আঞ্জুমান আজিজ খানের নামে প্রায় ৯২ কোটি ৬২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা এবং কন্যা আয়েশা আজিজ খানের নামে প্রায় ২৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬৪ টাকার অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
আয়কর নথিতে প্রদর্শিত সম্পদের মূল্য প্রকৃত সম্পদের তুলনায় কম এবং তার আয়ের সঙ্গে এ সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সামিট গ্রুপ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সামিট গ্রুপ বলছে, গণমাধ্যমে যে দুর্নীতি দমন কমিশনের তলবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যান, পরিচালক কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তলব নোটিশ পৌঁছায়নি। আমরা মানি লন্ডারিং বা কোনো অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছি।
এতে আরও বলা হয়, সংবাদে যেসব লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ছিল ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং তাদের বিনিয়োগকারী অংশীদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তারা ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশিকা সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামিট গ্রুপের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছিল। এ বিষয়ে আইএফসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যও দেখা যেতে পারে:https://disclosures.ifc.org/project-detail/SII/37593/summit-mezzanine
ওই বিনিয়োগের সব অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছে, যা ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যয়নিত, বাংলাদেশ ব্যাংকে যথাযথভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণভাবে দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে। সামিট গ্রুপ সবসময়ই আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং সর্বোচ্চ মানের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসএম/এমএএইচ/বিএ