কোনো বাবা-মা যখন তাদের সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করে তখন তারা দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দেখে। এক পর্যায়ে মন খারাপ করে চলেও যায়। কোমল হৃদয়ের শিশুদের কাছে ঈদের আনন্দ লুকিয়ে থাকে একটি নতুন পোশাকের মাঝে। এটিই যেন তাদের কাছে বিশাল কিছু। ঠাকুরগাঁও শহরের আনাচে কানাচে এখন এমন শিশু অসংখ্য। প্রতিনিয়ত তারা যুদ্ধ করছে অভাবের সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে কোনো কিছুর স্বাধ তারা পূরণ করতে পারছে না। তবে গত কয়েকবার থেকে তাদের স্বাধ পূরণে সহযোগিতা করছে উত্তরের অভিযাত্রিক নামে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় একটি সংগঠন। উঠতি বয়সের কয়েকজন তরুণ-তরুণী নিজেদের আনন্দগুলো ভাগাভাগি করতেই গত কয়েক বছর ধরেই এ কর্মসূচি পালন করছে।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের হলরুমে প্রায় ২ শতাধিক পথশিশু ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।এ উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা করেছে সংগঠনটির ক্ষুদে যোদ্ধারা। সভায় বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা হারুন অর রশিদ, সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু, রবিউল এসহান রিপন, সংগঠনের সভাপতি রাশেদুজ্জামান সাজু, সহ সভাপতি মুন্না, অন্যতম সদস্য রাফসান নাহিয়ান, মওসুম, প্লাবন, সাদিক প্রমুখ।অনুষ্ঠানে ঈদের পোশাক পেয়ে খুশিতে নাচানাচি করেছে কয়েকজন পথ শিশু। কেন তাদের এত আনন্দ জানতে চাইলে, একজন উত্তরে জানালো, ঈদের জামা পেয়েছি, বাবা-মা ঈদের কাপড় কিনে দিতে পারেনি। কিন্তু বড় ভাইয়ারা আমাদের ঈদের জামা কিনে দিয়েছে। এই জামা পড়ে ঈদের দিন সবাই ঘুরতে যাবো। জেসমিন (৬) নামে এক শিশুর মা আসমা বেগম জানান, শহরের একটা ছোট হোটেলে কাজ করেন তিনি। তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে অন্য জায়গায় চলে গেছেন। জন্মের পর থেকে কোনো ঈদেই জেসমিনের নতুন জামা পরার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু এবার হলো।আজিজুর নামের আরেক শিশু বলে, এইবার ঈদে মায়ের কাছে একটা জামা চাইছি। মা ধমক দিয়ে কইছে, কামাইয়ের টাকা জামা কিনে শেষ করলে খামু কী। কিন্তু আমাদেরকে কেউ তো বেশি সাহায্য করে না। তবে ভাইয়ারা আমাদের নতুন জামা কিনে দিসে আমরা এতেই খুশি।রবিউল এহসান রিপন/এমএএস/এমএস