এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের ভোট ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ভোট চোরদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো কালো ছায়া যেন আসমান থেকে নেমে এসে আমাদের স্বপ্ন এলোমেলো করতে না পারে, সে জন্য এখন থেকেই পাহারা বসাতে হবে। কোনো ভোট ডাকাত, ভোট চোর বা ভোট ইঞ্জিনিয়ার—কাউকে আর একচুল ছাড় দেওয়া হবে না। সিনা মজবুত করে আমাদের দাঁড়িয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় এবং সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে দুই ধরনের উন্নয়ন হয়েছে—একদিকে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অন্যদিকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধস ও অর্থপাচারের ‘উন্নয়ন’। আমরা এই দ্বিতীয় ধরনের উন্নয়ন আর চাই না। আমরা চাই জনগণের উন্নয়ন, ১৮ কোটি মানুষের উন্নয়ন।
রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাথা ঠান্ডা রাখুন। রাজনীতি করতে হলে ঠান্ডা মাথায় করতে হবে। রেগে গেলে হার নিশ্চিত। আগামী ১২ তারিখ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর দিন।
তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখে দুটি ভোট হবে—একটি নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে নতুন বাংলাদেশ, পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড। যে রাজনীতি মানুষ হত্যা করে, আয়নাঘর তৈরি করে, দেশের সম্পদ লুট করে; সেই রাজনীতিকে ইনশাল্লাহ ১২ তারিখে প্রত্যাখ্যান করা হবে।
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, রাজশাহীতে মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ স্থাপন জরুরি হলেও সেই উদ্যোগ ঘুমিয়ে আছে। জনগণের রায় পেলে সেই ঘুমন্ত প্রকল্প টেনে জাগিয়ে তোলা হবে। তিনি রাজশাহী সুগার মিলের লোকসানের জন্য চুরি ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন এবং সৎ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পকারখানাকে লাভজনক করার অঙ্গীকার করেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলী। নগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রাজশাহীর বিভিন্ন আসনের সংসদীয় প্রার্থীরা। জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/এএসএম