দেশজুড়ে

নিহত পুলিশ সদস্য আনসারুল্লাহর বাড়িতে শোকের মাতম

ঈদে মায়ের জন্য নতুন কাপড় আর ছোটদের উপহার কিনে ছেলে বিকেলে বাড়ি আসবে; তাই মা নানান রকম রান্না করে বসে আছেন। ছেলে সন্ধায় বাড়ি ফিরেছে, তবে পুলিশ ভ্যানে লাশ হয়ে! শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল্লাহর নিজ বাড়িতে তার প্রতিবেশিদের ভাষ্য এ রকমই। নেত্রকোনার মদন উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের পুলিশ সদস্য আনসারুল হকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে চলছে শোকের মাতম। ছেলের কথা বলতে বলতে বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছেন মা রাবেয়া খাতুন। ঈদের দিন সকালেও মুঠোফোনে ছেলে মাকে বলেছে বিকেলে বাড়ি ফিরবে। ফিরেছেও ছেলে তবে সন্ত্রাসীদের গুলিতে লাশ হয়ে। তবে আনসারুল্লাহর স্বজন আর প্রতিবেশিরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এই মৃত্যু। প্রতিবেশিরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সার্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন।ভাইয়ের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল্লাহর বড় ভাই। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি চাইলেন পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা চাইলেন নিহত পুলিশ কনস্টেবল আনসারুল্লাহর বড় ভাই নাজমুল হক। মদন এলাকার ত্রিয়োশ্রী কালীবাড়ি বাজারের চায়ের দোকানদার আনসারুল্লাহর বড় ভাই নাজমুল হক সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পর ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। অটোরিকশা চালক ছোট ভাই আমিরুল হক কেঁদে কেঁদে জাগো নিউজকে জানান, সাত বছর আগে সবার বড় ভাই আতিকুর হক সিলেটে নিমান কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যাবার পর আনসারুল্লাহ তাদের সংসারের হাল ধরেছিলেন। বসতি জমি ছাড়া অন্যকোন জমি নেই তাদের। ঈদের দিন বিকেলে আনসারুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের একমাত্র সক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মা রাবেয়া খাতুন (৬৫) বিলাপ করে বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছেন। একটু জ্ঞান ফিরলেই বলছেন, ‘আমার পুত আইজ ঈদের দিন শোলাকিয়া মাঠে শহিদ হইছে, দেশের লাইগা জীবন দিছে। হে তাঁর ওয়াদা রাখছে। অহন আল্লা আমার কি হইবো গো! আমি রাইনধা থইছি, কইছে ঈদের দিন আইয়া খাইবো। অহন পুতের লাশ আইতাছে।’ত্রিয়োশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আনসারুল্লাহ একজন সৎ ছেলে ছিল। ঈদের দিনে যারা এমন জঘন্য হামলা চালিছে তাঁকে হত্যা করেছে তাঁদের দ্রুত বিচার এবং এর পেছনে মদদ দাতাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।আনসারুল্লাহরা পাঁচ ভাই ও এক বোন ছিলেন। ছোট বোন ফাতেমাও পাঁচ বছর আগে মারা যান। সবার ছোট ভাই আইনুল হক বাংলদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করছেন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্তনা দেন এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু নগদ পনেরো হাজার টাকা প্রদান করেন। পুলিশ সুপার  জয়দেব চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, পুলিশের নিয়ম অনুসারে যা যা করার তাই করা হবে। এছাড়া আইজিপি সরাসরি এই পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে নয়টায় স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বাড়ীর সামনে পুকুর পাড়ে কবর স্থানে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয় পুলিশ সদস্য আনসারুল্লাহকে। কামাল হোসাইন/এআরএস/পিআর