পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের শারীরিক নির্যাতন, হত্যার হুমকি সহ্য করতে না পেরে বান্দরবানে রোয়াংছড়ি থেকে এলাকা ছেড়েছে ৬০টির অধিক আদিবাসী পরিবার।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার উপজেলার তালুকদার পাড়ায় চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পাহাড়ে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বিমল চাকমা নামে একজনকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। সহপাঠীকে আটকের পিছনে এলাকাবাসীকে দায়ী করে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের হত্যার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাতেই ৬০টির অধিক আদিবাসী পরিবার এলাকা ছেড়ে বান্দরবান জেলা সদরে চলে আসে। অনেকে শহরের আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আবার কেউ কেউ আবাসিক হোটেল ভাড়া করে দিনযাপন করছেন।রোয়াংছড়ি উপজেলার ২নং তারাছা ইউপি সদস্য উচিমং মারমা জানান, সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই প্রাণনাশের হত্যার হুমকি দেয়। মুঠোফোনে বলে ভালো করে ভাত খেয়ে নে, সময়মতো তোকে নিয়ে যাবো, তোকে না পাইলে তোর ছেলে বা মেয়েকে নিয়ে যাবো।এদিকে রোববার সকালে পাহাড়ে জেএএসের নির্যাতন, খুন, গুম, হত্যা ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এসময় বিভিন্ন ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন শতাধিক এলাকাবাসী। এসময় বক্তারা পাহাড়ে জেএএসের সন্ত্রাস বন্ধের দাবি জানান।বেতছড়া এলাকার মংপ্রু মার্মা জানান, সন্ত্রাসীদের জালায় অতিষ্ট সবাই। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এলাকায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, কোন্দলগুলো যাতে বান্দরবানে না ঘটে, সে চেষ্টা অব্যাহত আছে। গ্রাম থেকে কেউ যদি ভয়ে চলে এসে থাকে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। গ্রামেও যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে পদক্ষেপ আমরা নেব।গত ১৩ জুন জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার জামছড়ি মুখপাড়া থেকে অস্ত্রধারীরা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সদস্য মং প্রু মার্মাকে অপহরণ করে।সৈকত দাশ/এআরএ/এবিএস