দেশজুড়ে

ডিসেম্বরে নাসিক নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির

৩০ অক্টোবর শেষ হবে নাসিকের নির্বাচিত বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ। আগামী ডিসেম্বরে নাসিকের নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে ইসি। এ উপলক্ষে নির্বাচনের মাস ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা চালাচ্ছেন ডিজিটাল প্রচারণা। এবার ঈদে ডিজিটাল ব্যানার, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া ও এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ঈদ শেষ হয়ে গেলেও তাদের ডিজিটাল প্রচারণা এখনও এলাকার অলিগলিতে লক্ষ্য করা গেছে ডিজিটাল ব্যনারের কল্যাণে। ফেসবুকেও তাদের পেজে লাইক কমেন্টের মাধ্যমে প্রচারণা চলছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের সমর্থক, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরাও অনুরূপভাবে কাউন্সিলরদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ড রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায়। এ ১০টি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলরদের পাশাপাশি সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচারণা চালিয়েছেন। নাসিক ১ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কমিশনার আব্দুর রহিমের পাশাপাশি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ওমর ফারুক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, কমিশনার আব্দুর রহিমের ভাই সিরাজুল ইসলাম, সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ, লতিফ ফ্যাশন লিমিটেডের এমডি ও সাংবাদিক মো. আরিফ হোসেন ও চুন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। ২ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কমিশনার সেলিনা ইসলাম বিউটির পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং ডি কে কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হাজি মো. সুমন কাজী, বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন, সানারপাড় রহিম মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম মেম্বার ও আব্দুল হেকিম প্রচারণা চালাচ্ছেন। ৩ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কমিশনার শাহজালাল বাদলের পাশাপাশি যুবলীগ নেতা তোফায়েল হোসেন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৪ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কমিশনার আরিফুল হক হাসানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ওলামালীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন ভান্ডারী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নাজমুল হক খোকা, যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীর কাতারে। ৫ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবুলের পাশাপাশি আলী আকবর খান, আনিছুর রহমান আনিচ, বিএনপি নেতা রেহান উদ্দিন মামুন, ব্যবসায়ী আলী আক্কাছ, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির, আমির হোসেন মেম্বার, ব্যবসায়ী শেখ বদরুল ইসলাম বদু প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ৬ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কমিশনার সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের পাশাপাশি থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতি ও বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ৭ নং ওয়ার্ডে আলা হোসেন মেম্বারের পাশাপাশি আলাউদ্দিন মেম্বার, নজরুল ইসলাম বাবু, নূরুল হক মিতালী, শামীম ঢালী, সেলিম মজুমদার, মনিরুজ্জামান রিপন, জাহাঙ্গীর আলম, জাহানারা হাকিম, জয়নাল হক নির্বাচনে লড়বেন বলে শোনা যাচ্ছে। ৮ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কমিশনার রুহুল আমিন মোল্লার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যুবলীগ নেতা মহসিন ভূইয়া, যুবদল নেতা সাগর প্রধান, কৃষক দল নেতা উজ্জ্বল হোসেন, ব্যবসায়ী শওকত হোসেন, ঠিকাদার মুসলিম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ৯ নং ওয়ার্ডে ইসরাফিল প্রধানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান প্রধান, আওয়ামী লীগ নেতা বদিউজ্জামান বদু, সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিব তৌহিদ আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে তিনি নির্বাচন নাও করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা গাজী মামুন, ইফতেখার আলম খোকন, কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন লেকু, সাবেক কমিশনার মুক্তিযোদ্ধা মোহর আলী, সাবেক কমিশনার মরহুম মোসলেহ উদ্দিনের ভাই নাসির উদ্দিন মাদবর, হাজি সিরাজ, ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ভূইয়া ও দলিল লেখক খাজা মামুন।এদিকে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর মাকছুদা মোজাফফরের পাশাপাশি অন্য কোনো প্রার্থীর তেমন কোনো তৎপরতা এখনও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে জান্নাতুল ফেরদৌস নীলার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেত্রী মনোয়ারা বেগম নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া এ ওয়ার্ডেও অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারণা বা প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে রেহানা পারভীনের পাশাপাশি শিউলী নামের এক নারী প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী বলছেন, নির্বাচনের সময় আরো ঘনিয়ে এলে ওয়ার্ডগুলোতে অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন।হোসেন চিশতী সিপলু/এফএ/পিআর