জাতীয়

‘২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল পেয়েছি’

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে ভিড় বাড়ছে। অনেককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গত দুই দিন ধরে তেল নিতে চালকদের ভিড় বেড়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন চালকেরা।

রোববার (৮ মার্চ) নগরের কয়েকটি পেট্রোলপাম্প ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। তেল নেওয়ার জন্য চালকদের অনেকেই এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। তবে অপেক্ষার পরেও অনেকে পাচ্ছেন মাত্র ২০০ টাকার তেল।

বিকেলের দিকে নগরের গণি বেকারি মোড় সংলগ্ন কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন পাম্পের ভেতর থেকে সড়ক পর্যন্ত চলে গেছে। কর্মচারীরা তেল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাঁচলাইশ, ষোলশহর, নতুন ব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ চালক ট্যাংক পূর্ণ করে তেল নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু মালিকরা চাহিদামতো তেল দিতে পারছেন না।

বর্তমানে পাম্পগুলোতে ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গণি বেকারি মোড় সংলগ্ন কিউসি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক আসাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর ১২টার দিকে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছি। এর বেশি দিচ্ছে না।

বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিকের গাড়ি মালিক রাশেদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সীমিত সরবরাহের কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল দিচ্ছে না। ফলে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। আমার তেল লাগবে ১৫-২০ লিটার, কিন্তু আমাকে দিচ্ছে ৬-৭ লিটার। যার কারণে দূরবর্তী বিভিন্ন প্রোগ্রামে অ্যাটেন্ড করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে।

বিকেলে নতুনব্রিজ এলাকার মীর ফিলিং স্টেশন পেট্রোলপাম্পে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্স লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তেল পাওয়ার আশায় চালকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. রিদুয়ান জাগো নিউজকে বলেন, যুদ্ধের কারণে তেলের সংকট শুরু হয়েছে এমন খবর শুনছি। পাম্পে তেল না থাকলে গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম নগরের গণিবেকারি এলাকায় কিউসি ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপক মীর খান জানান, তাদের স্টেশনে স্বাভাবিক দিনে যেখানে ৮ থেকে ৯ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হয়, সেখানে গত তিন দিন ধরে তা ২০ হাজার লিটার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, চাহিদাকে ছাপিয়ে গেছে আতঙ্কিত মানুষের অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা।

মীর ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত তিন দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি তেল নিতে চাইছেন। ফলে দ্রুত মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে অনেক জায়গায় বিক্রির পরিমাণ সীমিত রাখা হয়েছে। যেন বেশি সংখ্যক গ্রাহক কিছুটা হলেও তেল নিতে পারেন।

এমআরএএইচ/এএমএ