রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়ায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ সোনিয়া আক্তার (২৫) মারা গেছেন। নিহত সোনিয়া আক্তার অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় আহত আরও ৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার (৮ মার্চ) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনিয়া আক্তার মারা যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, বিস্ফোরণে দগ্ধ সোনিয়া আক্তার আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল, তার ইনহেলেশন ইনজুরিও ছিল। এ ঘটনায় সোনিয়া আক্তারের স্বামী মো. রুবেল (২৮), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই মো. এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দুলারা খাতুন (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১৩), এনায়েতের ভাই মো. হাবিব (৩০), এনায়েতের ভাগনি আয়েশা (১৯), মো. হাবিব (৩৫) ও আবুল কালাম রুবেল (৩৫) জাতীয় বার্নে এখনো চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুনঢাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত ৩
এর আগে, গত শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে উত্তরায় কামারপাড়া এলাকার এক বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সাজেদ মাতব্বর বলেন, ভোরের দিকে উত্তরার কামারপাড়া ১০ নম্বর সেক্টর কবরস্থান রোড মেম্বারের বাড়ির পাশে আবুল কালামের বাসার দ্বিতীয়তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হন।
তিনি আরও বলেন, রুবেল মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করেন। তার চাচাতো ভাই এনায়েত দুবাইপ্রবাসী। কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান শুক্রবার জানান, দগ্ধদের মধ্যে এনায়েত আলীর ৪৫ শতাংশ, রুবেলের ৩২ শতাংশ, রিয়ার ৩২ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ, শিশু রোজার ১৮ শতাংশ, দিলারার ১৪ শতাংশ, আয়েশার ১২ শতাংশ ও আবুল কালামের ৭ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে।
কাজী আল-আমিন/কেএসআর