মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে ভয়ংকর চাপে পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজার। অপরিশোধিত তেলের দাম এরই মধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। তেল সংকটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় ও অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ।
জ্বালানির ব্যবহার কমাতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে সম্ভাব্য সংকট সামাল দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য।
দক্ষিণ কোরিয়া: জ্বালানি মূল্যে সীমা আরোপদক্ষিণ কোরিয়ার ৭০ শতাংশ তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং ঘোষণা দিয়েছেন, তারা প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জ্বালানি তেলের মূল্যে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেবেন। এছাড়া জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাপান: আপৎকালীন মজুত ব্যবহারের চিন্তাদেশটি তার প্রয়োজনীয় তেলের ৯৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। বর্তমানে জাপানের কাছে ৩৫৪ দিনের ব্যবহারযোগ্য তেল মজুত আছে। জরুরি পরিস্থিতিতে এই মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে জ্বালানি আমদানির ওপর শুল্ক তুলে দিয়েছে ভিয়েতনাম। এতে বাজারে তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীন: তেল রপ্তানি বন্ধগত সপ্তাহেই চীন তাদের তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করতে বলেছে। এমনকি, আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ থাকা বিদেশের চালানগুলো বাতিল করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা আগে পূরণ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও জি৭বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট ‘গ্রুপ অব সেভেন’ জরুরি তেল মজুত যৌথভাবে বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শামার কৌশলগত মজুত থেকে তেল বিক্রির আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
একই সময়, কুয়েত-ইরাকসহ বেশ কয়েকটি তেল উৎপাদক দেশ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারও সাময়িকভাবে গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিশাল চাপ তৈরি হতে পারে এবং অনেক দেশকে আরও কঠোর জ্বালানি সাশ্রয় ও জরুরি মজুত ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্সকেএএ/