দেশজুড়ে

চোর ধরিয়ে দিয়ে বিপাকে গ্রামবাসী

‘চোরের মার বড় গলা’ প্রবাদ বাক্যের মতোই চোরদের বড় গলায় বিপাকে পড়েছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের বাসুয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। সরকারি বরাদ্দের চাল চুরির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলায় এ অবস্থা হয়েছে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের। ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো অভিযুক্তরা এলাকার যারা চাল চোরদের ধরিয়ে দিয়েছিলেন তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোল্যা শাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অভয়নগর উপজেলার ৭নং শুভরাড়া ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৪১০টি কার্ডের অনুকূলে সরকার ১০৯ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। গত ১ জুলাই শুভরাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমশের বিশ্বাস নওয়াপাড়া খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে বাসুয়াড়ি আলিম মাদরাসায় রাখেন। এরপর ২ ও ৩ জুলাই চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণে পর ১২২ বস্তা (৫০ কেজির বস্তা) বাকি কার্ডধারীদের জন্য রাখা হয়। এরপর ৩ জুলাই আনুমানিক রাত ১০টার দিকে শুভরাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহির উদ্দিন খাঁ, ৪নং ওয়ার্ড নবনির্বাচিত মেম্বার ইদ্রিস শেখ, সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার নার্গিস আক্তার, সেলিম সরদার, ফারুক সরদার, নজরুল ইসলাম, আমির সরদার, লিটু শেখ, জনি সরদার, মনিরুল শেখ ও তাজিমুল শেখসহ অজ্ঞাত আরোও কয়েকজন ৭৮ বস্তা চালের মূল বস্তা পরিবর্তন করে নসিমনে তুলে বিক্রির চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেন। এলাকাবাসী স্থানীয় বাসুয়াড়ি পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলে ৭৮ বস্তা চাল পুলিশ জব্দ করে। এসময় এলাকাবাসী চাল চোরদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাল চোরদের বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরবর্তীতে চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল হায়দার বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। যার নম্বর ০৭, তারিখ ০৪.০৭.১৬।সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সেদিন যারা চাল চোরদের ধরিয়ে দিয়েছিলেন সেই এলাকাবাসীকে অভিযুক্তরা নানাভাবে হয়রানি করছে। পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অবিলম্বে অভিযুক্তদের আটক ও শাস্তি দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক মেম্বার হারুন শেখ, জিএম গোলাম কিবরিয়া, আজাহারুল শেখ, শফিক মোল্যা, শাহাদাৎ মোল্যা প্রমুখ।এ ব্যাপারে অভয়নগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে রয়েছে। দুদক মামলাটি তদন্ত করছে। মিলন রহমান/এআরএ/পিআর