২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লা মহানগরীর কালিয়াজুড়ির একটি বাসায় জেএমবির জঙ্গি ও র্যাব-পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি নেতা মোল্লা ওমরসহ ৪ জন নিহত হয়। সর্বশেষ ঈদ-উল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পুলিশের উপর হামলাকারী নিহত ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবির রহমানের (১৯) গ্রামের বাড়িও কুমিল্লায়। এসব বিষয় মাথায় রেখে সম্ভাব্য জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে কুমিল্লার পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সোমবার কুমিল্লা জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ তথ্য জানান পুুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।তিনি বলেন, নগরীসহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কুমিল্লা মহানগরীতে বসবাসরত নাগরিকদের তথ্য ভাণ্ডার তৈরি শুরু করেছে জেলা পুলিশ। এতে নগরীতে স্থায়ী এবং অস্থায়ীভাবে বাস করা বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে উপজেলা সদরেও অনুরুপ তথ্য সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শুধুমাত্র কুমিল্লা মহানগরী থেকে দেড় হাজার ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে ওই সভায় পুলিশ সুপার আরও জানান, গুলশানের হোটেলে জঙ্গি হামলার পর কুমিল্লায় নিখোঁজ যুবকদের তালিকা তৈরি শুরু হয়। এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৮ জন যুবকের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জঙ্গি সন্দেহে ৮ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ মো. ওমর ফারুক, বিজিবি-১০ এর সিও লে. কর্নেল মো. মেহেদী, র্যাব-১১ এর সিপিসি ২ এর অধিনায়ক মেজর মোস্তাফা, এনএসআই- কুমিল্লার যুগ্ম পরিচালক মুজিবুর রহমান, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউনুছ ভূইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী, সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার, হোমনা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা ও পিপি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন প্রমুখ। কামাল উদ্দিন/এফএ/এমএস