দেশজুড়ে

যশোরের ৫ তরুণের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

যশোরের ৫ তরুণের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে যশোর সদরের ৩ জন এবং মণিরামপুর ও শার্শার দু’জন রয়েছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এই পাঁচজনের জঙ্গি তৎপরতায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য উপাত্ত পেয়েছে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা। নিখোঁজদের মধ্যে কলেজ ও মাদরাসা ছাত্রও রয়েছে। যশোর জেলা পুলিশের প্রাথমিক তালিকার এই ৫ ‘জঙ্গি’ হলেন- যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার কাজী হাবিবুল্লাহ`র ছেলে ও সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র কাজী ফজলে রাব্বি (২১), যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আবদুস সোবাহানের ছেলে কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না (২৪)।এছাড়া শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের আওরঙ্গজেবের ছেলে মেহেদী হাসান জিম (১৯), যশোর শহরের ধর্মতলা এলাকার আবদুস সালামের ছেলে রায়হান (২১) ও মণিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত হাসান আলী গাজীর ছেলে জিএম নাজিম উদ্দিন ওরফে নকশা নাজিম (৩২)। যশোর পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ জঙ্গির বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন, এরা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত হতে পারে। তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মো. মেহেদী হাসান ওরফে হুসাইন জিম (১৯) গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছে। সে ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীরদরগাহ মাদরাসার বোর্ডিংয়ে (আবাসিক) থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। এ বিষয়ে মেহেদী হাসানের বাবা মো. আওরঙ্গজেব গত ১২ এপ্রিল শার্শা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। গত বছরের ৭ এপ্রিল মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এক বছরের মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে সে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন দুপুরে চুল কাটাতে যাওয়ার কথা বলে আবার নিখোঁজ হয়। মেহেদীর বাবা মো. আওরঙ্গজেব জানান, তিন মাস আগে মেহেদী বাড়িতে ফিরলে তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। সাধু ভাষায় কথা বলছিল। কারো সঙ্গে তেমন কথা বলে না। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে ঘর থেকে বের করা যায়নি। পরদিন সকালে চুল কাটাতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর ফেরেনি। মেহেদীর বাবা আওরঙ্গজেব অভিযোগ করে বলেন, ওই গাজীর দরগা মাদরাসায় থেকেই আমার ছেলের মাথা বিগড়ে গেছে। ওই মাদরাসা থেকে আরো কয়েকজন ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’গাজীর দরগা মাদরাসার অধ্যক্ষ বজলুর রহমান বলেন, মাদরাসার যে ছাত্ররা নিখোঁজ হয়েছে, তারা বাড়িতে গিয়েই নিখোঁজ হয়েছে। অপর নিখোঁজ কাজী ফজলে রাব্বি (২১) যশোর মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। গত ৫ এপ্রিল কলেজে যাওয়ার কথা বলে ফজলে রাব্বি পিঠে ঝুলানো একটি ব্যাগে জামা কাপড় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সেই থেকে তিনি আর ফেরেননি। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি কলেজ থেকে নিজের ভর্তি বাতিল করে সমস্ত কাগজপত্র তুলে নিয়েছেন। এ বিষয়ে ফজলে রাব্বির বাবা কাজী হাবিবুল্লাহ গত ৭ এপ্রিল যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ফজলে রাব্বির ফিরে আসার জন্য তার বাবা কাজী হাবিবুল্লাহ দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। এছাড়াও ধর্মতলা এলাকার রায়হান হিজবুত তাহরীরের কেন্দ্রীয় নেতা। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা আছে। প্রায় তিন বছর তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। আর মণিরামপুরের নাজিমউদ্দিন নিখোঁজের ব্যাপারে রাজধানীর ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়।এ প্রসঙ্গে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পাঁচ ‘জঙ্গির’ পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে, তারা ভুল পথ থেকে ফিরে এলে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। মিলন রহমান/এসএস/পিআর