দেশজুড়ে

সোনু ফিরে পেয়েছে বাবা-মাকে : বিপাকে বজরঙ্গী ভাইজান

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে পাচারকারীর কবলে পড়ে বরগুনার গ্রামে বন্দী থাকা শিশু অভিরূপ সোনু (১০) ফিরে গেছে তার বাবা-মায়ের কোলে। দিল্লীতে বাবা-মায়ের কোলে ফিরে গেলেও সোনু ভুলতে পারেনি বাংলাদেশের বজরঙ্গী ভাইজানকে। সোনুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পাচারকারীদের দায়ের করা মিথ্যা মামলা থেকে যেন বজরঙ্গী ভাইজান মুক্ত হতে পারেন সে জন্য ভারত-বাংলাদেশ দুই সরকারের কাছে মিনতি জানিয়েছে ছোট্ট শিশু সোনু ও তার বাবা-মা।এদিকে বাবা-মায়ের কোলে সোনুর ফিরে যাওয়ার পর জাগো নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশের বজরঙ্গী ভাইজান জামাল বিন মুছা। তিনি বলেন, একদিকে যখন ভাবি যে, শত বাধা ডিঙ্গিয়ে সোনুকে তার বাবা-মায়ের কোলে পৌঁছে দিতে পেরেছি তখন আনন্দে চোখে জল এসে যায়। আবার অন্যদিকে যখন দেখি একের পর এক মিথ্যে মামলার জালে আটকে আছি আমি ও আমার পুরো পরিবার তখন যেন চোখে সর্ষে ফুল দেখি। জামাল ইবনে মুছা আরও বলেন, শিশু সোনুকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে সেই ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ  ছ’বছর ধরে তাকে লড়তে হয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে। তিনি আরও বলেন, একমাত্র ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্যে সঞ্চিত যেটুকু অর্থ ছিলো তার সবই শেষ। এখন হাঁস-মুরগি বিক্রি করে ভাড়ার টাকা যোগার করে সাক্ষীসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তাকে একাধিক মামলায় হাজিরা দিতে বিভিন্ন আদালতে যেতে হচ্ছে। কবে তিনি এসব মামলার জাল ছিড়ে বের হতে পারবেন তা তিনি জানেন না। জামাল বিন মুছার স্ত্রী নিরু বেগম জানান, সোনুকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে তাদের পরিবারের সবাইকে কত যে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তা বলে বোঝানো যাবে না। তিনি বলেন, পাচারকারী চক্রের দায়ের করা পাঁচটি মামলায় একমাত্র ছেলে ফেরদৌসসহ পরিবারের সবাইকে একাধিকবার জেল খাটতে হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু সোনুকে ভারত থেকে অপহরণ করে পাচার করে আনা পাচারকারী চক্রের নাম পরিচয় এখন ওপেন সিক্রেট। ভারত থেকে শুধু সোনুকে নয়, ভয়ঙ্কর ওই পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে একাধিক নারী ও শিশুকে ভারতে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তারপরেও এখন অবধি পাচারকারী চক্রের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।বরগুনার বেতাগী উপজেলার গেরামর্দন গ্রামের স্থানীয় অধিবাসী পরিভানু (৪৫) বলেন, তার ছেলে হাসিবকে (২২) চাকরি দেয়ার কথা বলে একই গ্রামের হাসি বেগম (৪০) আজ থেকে চার বছর আগে ভারত নিয়ে গেছে। সেই থেকে আর কোনো খবর নেই তার ছেলের। একই গ্রামের অধিবাসী জুয়েল মিয়া (৩৫) জানান, হাসি বেগম ও তার ছয় বোনের সবাই পাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা সবাই ভারতে যাওয়া আসা করে। সেখানে তারা দীর্ঘদিন ধরে ডলার ব্যবসাসহ নানারকমের প্রতরণামূলক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে তিনি জানান।অভিযুক্ত হাসি বেগমের ছোট বোন রহিমার প্রাক্তন স্বামী মিরাজ (৩০) বলেন, রহিমা বেগম তার সঙ্গে প্রতারণা করে ব্যবসার কথা বলে তাকে ভারত নিয়ে যায়। পরে ভারত নিয়ে রহিমাকে বিয়ে করতে তাকে বাধ্য করা হয়। বিয়ের পর (মিরাজকে) তাকে বিভিন্ন প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে বাধ্য করে রহিমা ও তার সহযোগিরা। মিরাজ আরও জানায়, পরে নানা রকম কৌশল করে ভারত থেকে সে বাংলাদেশে ফিরে আসে। এত অভিযোগ তারপরেও বরগুনার বেতাগী উপজেলার প্রত্যন্ত গেরামর্দন গ্রামে আস্তা গেড়ে থাকা ওই পাচারকারী চক্রের কাউকেই এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, শিশু সোনুর ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝা যায় যে বেতাগী উপজেলার গেরামর্দন গ্রামে একটি পাচারকারী চক্র রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।এমএএস/এমএস