যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মো. মেহেদী হাসান ওরফে হুসাইন জীম (১৫) ১৫ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। মেহেদী হাসান ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ মাদরাসার বোর্ডিংয়ে (আবাসিক) থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। এ ঘটনায় মেহেদী হাসানের বাবা মো. আওরঙ্গজেব গত ১২ এপ্রিল শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।গত বছরের ৭ এপ্রিল মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এক বছরের মধ্যে স্বজনদের সঙ্গে সে কোনো ধরণের যোগাযোগ করেনি। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন দুপুরে চুল কাটাতে যাওয়ার কথা বলে আবার নিখোঁজ হয়।মেহেদীর বাবা আওরঙ্গজেব বলেন, তিন মাস আগে মেহেদী বাড়িতে ফিরলে তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। সাধু ভাষায় কথা বলছিল। কারো সঙ্গে তেমন কথা বলেনি। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার চেষ্টা করেও তাকে ঘর থেকে বের করা যায়নি। পরদিন সকালে চুল কাটাতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর ফেরেনি।মেহেদী হাসানের এক স্বজন জানান, মেহেদীর আচরণ ও কথাবার্তা ছিল অস্বাভাবিক। কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমন সন্দেহ আমাদেরও। যে কারণে দ্বিতীয় দফায় শার্শা থানায় আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।মেহেদীর বাবা আওরঙ্গজেব অভিযোগ করে বলেন, গাজীর দরগা মাদরাসা থেকেই আমার ছেলের মাথা বিগড়ে গেছে। ওই মাদরাসা থেকে আরো কয়েকজন ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি।এ ব্যাপারে শার্শা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সাধারণ ডায়েরির কথা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি নিয়ে তারাও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ বজলুর রহমান বলেন, এ মাদরাসার যে ছাত্ররা নিখোঁজ হয়েছে, তারা বাড়িতে গিয়েই নিখোঁজ হয়েছে।র্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, তারা নিখোঁজ তরুণদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তারা (নিখোঁজ) সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। অনেকের পরিবারও সন্দেহ করছেন। জামাল হোসেন/এআরএ/এমএস