রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের অতিগুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের পদ্মা নদীতে অব্যাহত হারে পানি বেড়ে তীব্র স্রোতে সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্রোতের তোড়ে দুটি রো-রো ফেরি রোববার দুপুরে মাঝ নদীতে ডুবোচরে আটকে পড়ার পর উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো ওই নৌ-রুটের ছয়টি ডাম্প (টানা) ফেরি পারাপার বন্ধ রয়েছে।জানা যায়, চলমান ফেরিসহ নৌযানগুলোও পারাপারে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। এদিকে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার কারণে উভয় ঘাটে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।কাওড়াকান্দি ঘাট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়ে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতের গতিবেগ তীব্র থাকার কারণে ফেরি, লঞ্চসহ নৌযানগুলোে এক কিলোমিটারেরও বেশি উজানে গিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতেও হিমশিম খাচ্ছে।ফলে দু’দিন ধরে ছয়টি ডাম্প ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিক রো রো ফেরি শাহ পরান ২১টি যানবাহন নিয়ে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসলে স্রোতের তোড়ে ডুবোচরে আটকে যায়।রোববার সকালে রো রো ফেরি শাহ আলীও ডুবোচরে আটকে যায়। দুই ঘণ্টা পর শক্তিশালী টাগ জাহাজ নিয়ে শাহ আলী উদ্ধার করলেও ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর আড়াইটায় শাহ পরান উদ্ধার করে শিমুলিয়া ঘাটে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে রো রো ফেরি ও কোঁইপ ফেরিসহ নৌযানগুলো দীর্ঘ সময় ব্যয় করে পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে।এদিকে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার কারণে উভয় ঘাটে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাওড়াকান্দি ঘাটে পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষা রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেরিচালক বলেন, স্রোতের গতিবেগ তীব্র থাকার কারণে ফেরি, লঞ্চসহ নৌযানগুলো দেড় কিলোমিটারেরও বেশি উজানে গিয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে হচ্ছে। স্রোতের গতিবেগের সঙ্গে কুলাতে না পেরে এরই মাঝে কেটাইপ ফেরি ও ডাম্প ফেরি ফেরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।কাওড়াকান্দি ঘাটে বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা আ. ছালাম মিয়া বলেন, শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের পদ্মা নদীতে অব্যাহত পানি বেড়ে তীব্র স্রোতের কারণে ডাম্প ফেরিগুলো চলাচল করতে পারছে না। অপরদিকে দীর্ঘ সময় ব্যায় করে অন্য ফেরিগুলো চলাচল করছে। ফলে উভয় ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/এবিএস