`আগে ঢাকায় চাকরি করতাম। কিন্তু থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক বেশি ছিল। নিজে খেয়ে পড়ে বাড়িতে আর কোনো টাকা পাঠাতে পারতাম না। কিন্তু এখন বাড়ি থেকে ফ্যাক্টরিতে যাই। সব মিলিয়ে ভাল আছি।`কথাগুলো বলছিলেন দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সরাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজের ছেলে উজ্জল হোসেন (২৮)। তিনি ঈশ্বরদী ইপিজেডের তিয়ানী কোম্পানিতে ২ বছর ধরে চাকরি করছেন।শুধু উজ্জল নয় ঈশ্বরদী ইপিজেডে কাজ করে অনেকের ভাগ্য ফিরেছে। নতুন স্বপ্নে সংসারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এমনই একজন জাহাঙ্গীর আলম কেরু (৫০)। ইপিজেড গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় বেশ আনন্দের সঙ্গেই বললেন, ঈশ্বরদী ইপিজেডে অবস্থিত রহিম আফরোজ কোম্পানিতে ৬ বছর যাবত চাকরি করছি। এর আগে দর্জির কাজ করতাম। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতাম। কিন্তু এখন তার কোনো অসুবিধা হয় না। তাছাড়া পেশার সম্মান তো আছেই। দিয়াড় সাহাপুর গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে শিউলি খাতন (১৮)। বাবা অটোরিকশা চালক। অবিবাহিত শিউলি ইপিজেডে এমজিএল কোম্পানিতে আড়াই বছর যাবত চাকরি করছেন। তার এই চাকরির কারণে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসার পাশাপাশি বাবার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। সাহাপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (২৫)। তিনি ৫ বছর ধরে ইপিজেডের রুলিং বিডি লি. কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। স্বামী দর্জির কাজ করেন। হোসনেয়ারা বলেন, `আমার চাকরির টাকা দিয়ে জমি কিনে ঘর তুলেছি।ফ্রিজসহ আসবাবপত্র কিনেছি। এখন আমরা ভালই আছি।` এ ধরনের হাজারো তরুণ-যুবক ঈশ্বরদী ইপিজেডে চাকরি করে সুন্দর জীবনযাপন করছেন। তবে এদের অনেকে পরিশ্রম অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। পারিশ্রমিকের পরিমাণ বাড়ালে তাদের আর কোনো দাবি থাকবে না বলে জানান।জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরদী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০০১ সালে। ঈশ্বরদী উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাকশীতে ৩০৯ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই ইপিজেড বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা।এ ইপিজেড ঢাকা শহর থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ১০.৬০ কি.মি. ও রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে ১১০ কি.মি. এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮৪ ও মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮০ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। এখানে বেপজা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পানি, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের জন্য ১১ কেভির একটি সাবস্টেশন আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈশ্বরদী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শতভাগ বিদেশি পুঁজি, বিদেশি ও দেশীয় পুঁজির যৌথ বিনিয়োগ এবং শতভাগ দেশীয় পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমেও শিল্প স্থাপন করা যায়। এখানে রয়েছে ২৯০টি বাণিজ্যিক প্লট। এখানে বর্তমানে তৈরি পোশাক, সোয়েটার, খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিগত ৬ বছরে ঈশ্বরদী ইপিজেড থেকে বেপজা বিনিয়োগে ১২৯.৫৫%, রফতানিতে ১৫৫.৯৫% এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১১২.৩০% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এসএস/আরআইপি