দেশজুড়ে

ফরিদপুরে ১৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী

প্রতিদিনই পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ফরিদপুরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার জনগণ পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিপদসীমার ৬০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার সদর উপজেলাসহ তিনটি উপজেলার দশটি ইউনিয়নের প্রায় ১৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতার ফলে এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশুর থাকা খাওয়া নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষগুলো। সেই সঙ্গে ধানসহ বিভিন্ন ফসলী জমি পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  ডিক্রিরচরের চর টেপুরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাড়ারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আলীয়াবাদের সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গদাধরডাঙ্গি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব চরটেপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা-ঘাটসহ বিদ্যালয়ের মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি উঠায় লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।পূর্ব চরটেপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব জানান, গত চার-পাঁচ দিন ধরে বিদ্যালয়টিতে বন্যার পানি উঠেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় বাশের সাঁকো বানিয়ে শিক্ষার্থীদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিবপদ দে জানান, যে সব বিদ্যালয় নিমজ্জিত হয়েছে সে সব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। প্রধান শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিকল্প কোনো বাড়ি বা জায়গায় পাঠদান চালিয়ে যেতে।ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. আবু নঈম মোহম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলায় বন্যা রক্ষা বাধ মেরামতসহ বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা সে মোতাবেক কাজ শুরু করেছে। এস.এম. তরুন/ এমএএস/পিআর