ব্যস্ত জীবনে সবচেয়ে দামি সম্পদ সময়। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, বাজার করা, যাতায়াত সব মিলিয়ে দিনের বড় একটা অংশই চলে যায় ছোট ছোট কাজে। এরমধ্যে চলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, মেইল লেখা, গুগলে নানান বিষয় সার্চ করা। জানেন কি, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গুগলের কিছু স্মার্ট ট্রিক প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে।
গুগলে এমন কিছু ফিচার রয়েছে, যেগুলো একবার অভ্যাসে এলে কাজের গতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই একটি কার্যকর গুগল ট্রিক, যা দৈনন্দিন জীবনে সময় বাঁচানোর গোপন অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
গুগলের ভয়েজ টাইপিংমোবাইল বা ল্যাপটপে দীর্ঘ মেসেজ, ই-মেইল বা রিপোর্ট লিখতে গিয়ে কত সময় নষ্ট হয় তা ব্যবহারকারীরা ভালোই জানেন। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে গুগল দিয়েছে ভয়েজ টাইপিং ফিচার। শুধু কথা বললেই লেখা হয়ে যাবে স্ক্রিনে তাও আবার বাংলা ভাষায়। গুগল ডকস, গুগল কিবোর্ড কিংবা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট সব জায়গাতেই এই সুবিধা পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা, এটি শুধু শব্দ লিখেই থেমে থাকে না; নিজে থেকেই যতিচিহ্ন, কমা, ফুলস্টপ পর্যন্ত বসিয়ে দেয়।
একটি পাঁচ মিনিটের লেখা যেখানে টাইপ করতে ১৫-২০ মিনিট লাগে, সেখানে ভয়েস টাইপিংয়ে সময় লাগে মাত্র ৫-৭ মিনিট। প্রতিদিন দুই-তিনটি কাজ এভাবে করলে সহজেই এক ঘণ্টা সময় বাঁচানো সম্ভব।
ই-মেইল লেখায় সময় বাঁচাবেঅফিস বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ই-মেইল লেখাই অনেকের জন্য বড় সময়খরচের কারণ। কীভাবে শুরু করবেন, কী ভাষা ব্যবহার করবেন ভাবতেই সময় চলে যায়। এই জায়গায় গুগলের স্মার্ট কম্পোজ ও হেল্প মি রাইট ফিচার দারুণ কার্যকর।
আপনি শুধু কয়েকটি শব্দ লিখতে শুরু করবেন, বাকিটা গুগল নিজেই সাজেস্ট করবে। প্রয়োজনে পুরো ই-মেইলের খসড়াও তৈরি করে দেবে। পরে চাইলে আপনি সেটি নিজের মতো করে ঠিক করে নিতে পারবেন। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন একাধিক ই-মেইল লেখেন তাদের জন্য এটি সময় বাঁচানোর অন্যতম সেরা ট্রিক।
গুগল সার্চেই মিলবে সমাধানআগে কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে হলে একের পর এক ওয়েবসাইট খুলতে হতো। এখন গুগল সার্চে প্রশ্ন লিখলেই এআই নিজেই সারসংক্ষেপ করে উত্তর দেখিয়ে দিচ্ছে। ধরুন গুগলের কাছে জানতে চাইলেন- চা বানানোর সঠিক নিয়ম, অথবা ইন্টারভিউয়ের আগে কী প্রস্তুতি নেব, কিংবা মোবাইল ধীরে চললে কী করবেন। এসব প্রশ্নের উত্তর এখন আর আলাদা করে খুঁজতে হয় না। গুগল এক স্ক্রিনেই মূল তথ্য তুলে ধরে। এতে তথ্য খোঁজার সময় অর্ধেকে নেমে আসে।
গুগল ম্যাপসযাতায়াতেও গুগল সময় বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখছে। লাইভ ট্রাফিক আপডেট, বিকল্প রুট, এমনকি অফলাইন ম্যাপ সব মিলিয়ে ভুল রাস্তা বা যানজটে আটকে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। অপরিচিত এলাকায় গেলে ক্যামেরা অন করে লাইভ ভিউ ব্যবহার করলেই চোখের সামনে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এতে রাস্তা খুঁজতে যে সময় নষ্ট হয়, তা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
গুগলের এসব ফিচার আলাদা করে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। অথচ অনেকেই সেগুলো জানেন না বা ব্যবহার করেন না। ভয়েস টাইপিং, স্মার্ট ইমেইল, দ্রুত সার্চ, স্মার্ট ম্যাপ সব মিলিয়ে প্রতিদিন যদি ১০-১৫ মিনিট করে সময় বাঁচানো যায়, তবে দিনের শেষে সেটাই দাঁড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা। আরও পড়ুনবন্ধ রাখুন ৩ সেটিংস, ব্যক্তিগত তথ্য জানবে না গুগল-ফেসবুকজি-মেইলের বাল্ক মেইল পরিষ্কারের সহজ উপায়
কেএসকে